# ডেসটিনি ২০০০ লিঃ আমার সন্তানের মতো
# দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: ‘‘ধান্দাবাজি নয়, আমি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করতে চাই’’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
বুধবার ( ১৪ মে ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বলেন, এই সরকার পরিবেশবান্ধব, রাজনীতি বান্ধব। এখন অনেক দল গঠিত হচ্ছে। আমিও মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করতে চাই। সংসদে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি এখনই নেই, তবে ভবিষ্যতে আমাদের নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নেবেন জোটে যাব কি না। তিনি দাবি করেন, দুদকের ভেতরে টর্চার সেল ছিল, যেখানে চোখ বেঁধে মুখে গরম পানি ঢালা হতো, ঝুলিয়ে রাখা হতো। আমার স্ত্রী ডেসটিনির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও তাকেও আসামি করা হয়েছে। আমার দুই সন্তান ১২ বছর ধরে মায়ের অভাবে কষ্টে বড় হয়েছে। তাদের আমি কোনো জবাব দিতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, আমাকে বিদেশে চলে যেতে বলা হয়েছিল। আমি বলেছি, যাব না। কারণ আমি জানি, তারা আমাকে ক্রসফায়ারে মারবে। এরপর তারা প্রস্তাব দেয়, ডেসটিনি বন্ধ করে দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে জামিন দেওয়া হবে। আমি বলি, এতে লাখো বিনিয়োগকারী পথে বসে যাবে। তাদের কথা সরকারের কেউ ভাবে না।
দুদকের হেফাজতে ২৩ দিনের রিমান্ডে থাকা অবস্থার বর্ণনায় তিনি বলেন, আমাদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হতো। বলা হতো স্বীকারোক্তি দাও, নয়তো তোমাদের স্ত্রী-সন্তানদের বিপদে ফেলব। আমি রাজি না হওয়ায় আমার স্ত্রীকে জেলে পাঠানো হয়।
নিজেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার দাবি করে রফিকুল আমীন বলেন, ডেসটিনি যখন শুরু করি, তখনই ফ্যাসিস্ট সরকারের রোশানলে পড়ি। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, যেখানে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ছিল না। আমরা একটি সমবায় সমিতি করেছিলাম, সেখানে বিনিয়োগ সীমার একটু বেশিতে আমাদের ফৌজদারি মামলায় জড়ানো হয়। মুদ্রা পাচারের মামলা আমার বিরুদ্ধে হয়নি, অথচ সেই আইনের আওতায় আমাকে সাজা দেওয়া হয়। প্রমাণ হিসেবে কেবল পত্রিকার রিপোর্ট ব্যবহার করা হয়েছিল, বাস্তব কোনো সাক্ষ্য ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, ৪৫ জন প্রকৃত বিনিয়োগকারীর সাক্ষ্য নেয়নি। সাক্ষী করেছে সরকারি কর্মকর্তাদের। মামলাকে দীর্ঘায়িত করতেই এসব করা হয়েছে।
রাজনীতিতে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম একদিন গণমাধ্যমের সামনে সত্য বলব। আজ সেই দিন এসেছে। আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতেই ‘আমজনগণ পার্টি’ গঠন করেছি।
পার্টির নাম নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে নাম ছিল ‘আমজনতা’। পরে বিএনপি নেতা তারেক রহমান অনুরোধ করেন নাম পরিবর্তনের। সম্মানের খাতিরে আমরা ‘আমজনগণ পার্টি’ রাখি। প্রতিহিংসার পথে যাইনি।
বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বলেন, ডেসটিনি ২০০০ লিঃ আমার মেয়ের মতো কোনভাবেই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হোক সেটা আমি চাইবো না। ডেসটিনির বিকল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার বিষয়টি ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের অপপ্রচার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেসটিনি ২০০০ লিঃ একটি এমএলএম কোম্পানি। আর যে কোম্পানি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সেটি একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটক করার পর ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর বিকল্প অন্য প্রতিষ্ঠান চালু করার ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়। যাতে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী আমাকে ভুল বুঝে মাঠে নামেন। কিন্তু এসব অপপ্রচার সত্বেও ৪৫ লাখ বিনিয়োগকারী আমার পাশে ছিলেন। এখনো আছেন। রফিকুল আমীন বলেন, ডেসটিনি ২০০০ লিঃ আমার সন্তানের মতো, ডেসটিনি ২০০০ লিঃ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমি এমন কোন পদক্ষেপ নিতে পারি না। ডেসটিনি ২০০০ লিঃ আমার প্রাণ, আমি বারো বছরের বেশি সময় জেল খেটেছি ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর জন্য। ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর কোন ঋণ নেই। ডেসটিনি ২০০০ লিঃ গ্রাহকদের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেয়ার মতো যথেষ্ট এসেট রয়েছে। এখনো ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর যে সম্পদ রয়েছে তার মূল্য কমপক্ষে ৭ হাজার কোটি টাকার। আর বিনিয়োগকারীদের পাওনা ৩ হাজার কোটি টাকার মতো।
ডেসটিনি ২০০০ লিঃ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রফিকুল আমীন বলেন, ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এ যারা বিনিয়োগ করেছে, তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর বর্তমান বোর্ডের।
ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এ আমাকে যদি আবার ম্যানেজিং ডিরেক্টর করা হয়, তাহলে আমি এক মাসের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে শুরু করবো। বিনিয়োগ করেছে, ওই টাকা ফেরত দেওয়ার মালিক ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর বর্তমান বোর্ড। আমাকে যদি আবার ম্যানেজিং ডিরেক্টর করা হয়, তাহলে আমি মানুষের টাকা ফেরত দিতে পারব। সরকার ব্যাংক হিসাব খুলে দিলে তার পরের মাস থেকেই বিনিয়োগকারীদের টাকা দেওয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, আমি এখনও ম্যানেজমেন্টে ঢুকতে পারিনি। আমি ডেসটিনি ২০০০ লিঃ বাদ দিয়ে কোনো কোম্পানিও করিনি। আমি নতুন একটি ই-কমার্স কোম্পানি করেছিলাম। সেটাও এখন বন্ধ। ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর কোনো ঋণের দায় নেই। ডেসটিনি ২০০০ লিঃ গ্রুপের ছয় থেকে সাত হাজার কোটি টাকার সম্পদ আছে। এখানে দায় আছে ৩ হাজার কোটি টাকার।
নতুন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির আহ্বায়ক বলেন, সততার সঙ্গে দুই পয়সা আয় করতে ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এর বিকল্প কিছু ছিল না। ডেসটিনি ২০০০ লিঃ-এ সব সময় সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছি। সততার কারণেই ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলে পড়েছিলাম। আমার নামে মিথ্যা স্টোরি ছাপিয়ে এবং মিথ্যা মানি লন্ডারিং মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছিল। আমার মামলার এজাহারগুলো পড়লে আপনারাও ভালো করে বুঝতে পারবেন।
ডেস্ক রিপোর্ট: মহান ‘জুলাই শহীদ’ দিবসে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত ...
স্টাফ রিপোর্টার: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাব তো ...
স্টাফ রিপোর্টার:সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যপরিধি নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহ ...
স্টাফ রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানিয়েছেন, ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করছে সরকার। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নি ...
সব মন্তব্য
No Comments