স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বিজয় দিবসে সন্ধ্যা ৭ টায় জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘২০২৪: ঐ নূতনের কেতন ওড়ে’ মাসব্যাপী পোস্টার, পেইন্টিং, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, কার্টুন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন জুলাই বিপ্লবে আহত ছাত্র ও ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক মোস্তফা জামান।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচার পতনের পর দেয়াললিখন ও দেয়ালচিত্রের আন্দোলনসহ, আলোকচিত্রে আন্দোলনের প্রামাণ্য দলিল তুলে ধরে বহুমাত্রিক একটি আর্কাইভ গড়ে তোলার প্রাথমিক প্রয়াস হিসেবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন।
উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “জুলাই বিপ্লব ২০২৪ অনিবার্য হয়ে ওঠেছিলো, কারণ স্বাধীনতা বেহাত হয়ে গিয়েছিলো। এটা কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, এর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল এবং তারা জানতেন যে কে দেশ চালাচ্ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই ২৪ জুলাই হয়েছিলো। একাত্তরের চোখ দিয়েই ২০২৪ হয়েছে। আমাদের দেশ আর সেই অবস্থায় আর ফিরে যাবে না।”
শিল্পকলা একাডেমির নানামাত্রিক অনুষ্ঠানমালার প্রসংশা করে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, “এই বিজয়ের মাসে উৎসবের জোয়ার চলছে শিল্পকলা একাডেমিতে। যারা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে যে বাংলাদেশ ইসলামিস্টরা দখল করে নিয়েছে, তাদের জন্য উত্তর হবে শিল্পকলা একাডেমির নানামুখী এসব অনুষ্ঠানমালা।”
সংস্কৃতি উপদেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, “এতো বছর ভাষাতাত্ত্বিক, ভাষাভিত্তিক যে জাতীয়তাবাদের কথা বলা হয়েছে ভাষার বাইরে শুধু বাঙালির কথা যেটা বলা হয়েছে সেখানে শিল্পকলা একাডেমি মনে করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী না বলে “আদিবাসী” বলে পরিচয় দেয়া হোক। একইভাবে মুসলিম হলে মনে করা হতো নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী দল, যাদের জুজুর ভয় দেখিয়ে ১৫ বছর শাসন চালিয়ে গেছে। তার মানে ইসলামিক কোন শাসনব্যবস্থা আমাদের মধ্যে ঢুকতে পারবে না। অথচ লোক দেখানোর জন্য তারা ওমরা করেছেন। গোপনে যোগ সাজেশ করেছেন।”
মহাপরিচালক আরো বলেন, “আজকে যারা আওয়ামীদের প্রকাশ্য সমর্থন করে রবীন্দ্রনাথের কথা বলে যাচ্ছে যে আমরা রবীন্দ্রনাথকে ভুলে যাচ্ছি। জাতির দুইটা বিষয় আছে একটি অতীত একটা বর্তমান। গত ১৫ বছরে একাত্তরের খন্ডিত ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে যেখানে জেনারেল ওসমানী নেই, তাজউদ্দিন নেই, শেখ মুজিবকে নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তারা তাদের ভাবাদর্শ তৈরি করেছেন। যা সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের অতীতের স্মৃতি।”
সকলের সহাবস্থান উল্লেখ করে নাট্যকার ও শিক্ষক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, “সকল চিন্তা, সকল মহৎ পথ, সহিষ্ণুতার সাথে আমরা শুনতে পারি। আমরা এখন বিশৃংখলতার চাইতে শিল্পকর্মের দিকে, নতুন চিন্তার দিকে নজর দেই। আমরা মনে করি জাতিগত পরিচয় তুলে ধরবে শিল্পকর্ম। বহুবছর আগের হিন্দু শাসন, মুসলমান শাসন, বৌদ্ধ শাসন কিভাবে মনে রাখব, তার উপরে আমাদের জাতিসত্তা নির্মিত হবে। বিশৃঙ্খল না হয়ে আমাদের একে অপরের কথা শুনতে হবে, আমরা যেন নিজেরা নিজেদের পথকে বের করতে পারি এবং একসাথে থাকতে পারি তার মনোবাসনা সকলের থাকতে হবে।”
পরে প্রধান অতিথি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং গ্যালারী পরিদর্শন করেন।
একইসাথে সন্ধ্যা ৬.০০ টায় একাডেমির নন্দনমঞ্চে শুরু হয় বিজয়ের অনুষ্ঠান। একাডেমির সংগীত, নৃত্য এবং আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগীত ও নৃত্য আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক মেহজাবীন রহমান।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পীবৃন্দের সমবেত যন্ত্রসংগীত ‘দেশের গান’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সমবেত সংগীত ‘ও আলোর পথযাত্রী’ এবং ম্যাশআপ (‘সবকটা জানালা’, ‘একবার যেতে দি না’, ‘বিপ্লবের রক্তে রাঙা’, ‘একতারা লাগে না আমার’ এবং ‘ও আমার দেশের মাটি’) পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কন্ঠশিল্পীবৃন্দ; একক আবৃত্তি ‘ছবি’ (আবু হেনা মোস্তফা কামাল) করেন মাহিদুল ইসলাম মাহি। সমবেত নৃত্য ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’ পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন লায়লা ইয়াসমিন লাবণ্য এবং কণ্ঠ দিয়েছেন রোখসানা আক্তার রূপসা; একক সংগীত ‘যে মাটির বুকে’ ও ‘মাগো ভাবনা কেন’ পরিবেশন করেন পিয়াল হাসান। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা এবং ‘এসো বাংলাদেশের যত বীর জনতা’ ও ‘মোরা ঝঞ্জার মত উদ্দাম’ পরিবেশন করে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন। একক সংগীত পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা; সমবেত নৃত্য ‘বিপ্লবী জনতা’ পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ, পরিচালনায় ছিলেন ইমন আহমেদ, সহযোগী নৃত্য পরিচালক হিসেবে ছিলেন জাহিদুল ইসলাম সানি, গীতিকার- কফিল উদ্দিন মাহমুদ, সুরকার- ফাহাল হোসাইন অন্তু, কন্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কন্ঠশিল্পীবৃন্দ, যন্ত্রসংগীতে ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পীবৃন্দ। একক আবৃত্তি করেন দি রেইন।
সবশেষে মঞ্চে ওঠে ব্যান্ডদল ‘আর্টসেল’ এবং ‘লালন’ ।
এরপূর্বে সকাল ১০ টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
স্টাফ রিপোর্টার: সোনালি পর্দার সেই অমর স্মৃতির উত্তরাধিকার নিয়ে এবার চলচ্চিত্রের আঙিনায় এক নতুন লড়াইয়ের সুর বেজে উঠেছে। দুই কিংবদন্তির উত্তরসূরি এক হয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির হাল ধরতে। আ ...
স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা ও মনোজগৎ নির্মাণের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি বলেন ...
ডেস্ক রিপোর্ট: মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা নিয়ে এবার মুখ খুললেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। এর আগে একই ইস্যুতে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তার স্বামী ও অভিনেতা ওমর সানী। গত ...
ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদান ও দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন গবেষক ও নির্মাতা আহমেদ তাহসিন শামস। সম্প্রতি তাঁর প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য ওয়াটার রিডার্স’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘ল ...
সব মন্তব্য
No Comments