তদন্তে প্রশাসন
অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় সরকারি খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকার ‘মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম সুইচগেট পর্যন্ত’ খালের প্রায় ২ কিলোমিটার অংশে বর্তমানে পুনঃখননের কাজ চলছে।সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত এ প্রকল্পের আওতায় বোয়ালমারীতে একাধিক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট খালটির কাজ চলাকালে গাছ কাটার বিষয়টি সামনে আসায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, খননকাজের সময় খালের পাড়ঘেঁষা সামাজিক বনায়নের বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, কাটা গাছের মধ্যে মেহগনি ও শিশু প্রজাতির গাছ ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে ঠিক কতসংখ্যক গাছ অপসারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে কিনা, কোনো অনিয়ম ঘটেছে কিনা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফরিদপুর বন বিভাগের উদ্যোগে ওই এলাকায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বিপুলসংখ্যক গাছ রোপণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা এই সবুজ বেষ্টনী স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছিল বলে অনেকের অভিমত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “খাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধন” শিরোনামে কয়েকটি ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে কিছু কাটা গাছের কান্ড ও গুড়ি উদ্ধার করা হয় বলে প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহলের নাম আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন।
উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, খালপাড়ের গাছ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় থাকা উচিত। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, কৃষি ও পানি সংরক্ষণের স্বার্থে খাল পুনঃখনন প্রয়োজন হলেও কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক বলেও তিনি জানান।
ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোঃ মুনসুর রহমান: সাতক্ষীরা শহরের বসুন্ধরা মাকের্ট মালিকদের নামে জমি অধিগ্রহণ ও জমির অবকাঠামো ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২৬) সকালে ...
বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও : আইনি সহায়তা সেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় লিগ্যাল এইডের বর্তমান সেবা ...
বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল ১৬ বছর বয়সী স্কুলছাত্র মো. পারভেজ ইসলামের।বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের আইরমারী নতুনপাড়া এলাকায় ঘটে এ ...
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে সার মজুত ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে চার ব্যবসায়ীকে অর্থ ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ২৬১ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অভিযানে ...
সব মন্তব্য
No Comments