অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে টানা কয়েকদিন ধরে বিরাজ করছে তীব্র ভ্যাপসা গরম। প্রচণ্ড রোদ, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার কারণে জেলার জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দিন ও রাত—কোনো সময়ই মিলছে না স্বস্তির ছোঁয়া। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী, রিকশাচালক, কৃষক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা পেশাজীবীরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ফরিদপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা সামান্য বেড়ে ৩৬.০২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। শুক্রবার তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৪.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতিতে কোনো স্বস্তি আসেনি। বরং ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অপ্রয়োজনীয় কারণে মানুষের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে গেছে। সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগকেই ছাতা, টুপি ও পানির বোতল সঙ্গে রাখতে দেখা গেছে।
রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, সকাল পর্যন্ত কিছুটা স্বাভাবিকভাবে কাজ করা গেলেও দুপুরের পর রাস্তায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঘামে ভিজে যায় এবং যাত্রী পাওয়াও কমে গেছে বলে জানান তিনি।
কৃষিকাজে নিয়োজিত সদর উপজেলার মজিবর শেখ জানান, মাঠে কাজ করতে গিয়ে অসহনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। সকাল থেকেই তাপমাত্রা এতটাই বেশি থাকে যে শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না।
ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম হলেও গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকাতে না পারায় মানুষের মধ্যে ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত শুরু হলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে এবং জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।
এদিকে চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, অপ্রয়োজনে রোদে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা ও সুতি পোশাক পরিধান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়ে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
টানা গরমে ফরিদপুরে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে চরম অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জেলার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা—শিগগিরই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটবে এবং দীর্ঘদিনের এই ভ্যাপসা গরম থেকে মিলবে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি।
রাহাদ সুমন, বরিশাল ব্যুরো: ঝালকাঠির নলছিটিতে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন এক নারী। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় মা ও মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চা ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : পুলিশী নির্যাতনে গ্রেপ্তারকৃত আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে প্রকাশ্যে থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শুক্রবার (১০ ...
চট্টগ্রাম অফিস: টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট পাহাড়ধস এবং বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত পাঁচ দিনে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে প্রাণ হা ...
সৈয়দ রাসেল আহমদ,সিলেট অফিস: সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে বেপরোয়া একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার রাতে গোলাপগঞ্জের ...
সব মন্তব্য
No Comments