স্টাফ রিপোর্টার: শহরাঞ্চলে শিশুশ্রম নির্মূলে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন শিশুশ্রম নিরসনে কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, দারিদ্র্য, দুর্বল আইন এবং সামাজিক সচেতনতার অভাবে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরগুলোতে শিশুশ্রম এখনো একটি স্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান বাস্তবতা হিসেবে রয়েছে। এই অবস্থা পরিবর্তনে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির কার্যক্রমের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় অপরিহার্য।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নগর প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম : বাংলাদেশে সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণ ও টেকসই কৌশলগত সমাধান বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এডুকো বাংলাদেশ ও চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম (ক্ল্যাপ) আয়োজিত ওই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন এডুকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উত্থাপন করেন গবেষক দলের প্রধান আমিনুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও উপ-সচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদ, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর, শিশু অধিকার ফোরামের খন্দকার রিয়াজ হোসেন, এএসডির ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, সরকারের এককভাবে শিশু নিরসন সম্ভব না, কোনো সংস্থাও এককভাবে এটা নিরসন করতে পারবে না, এটা সামষ্টিক কাজ। এ কাজে করপোরেট খাতকে সঙ্গে নিয়েই অড়্রসর হতে চায়। বড় বড় কোম্পানির সিএসআর তহবিল থেকে যদি নির্দিষ্ট একটি অংশ শিশুশ্রমের জন্য বরাদ্দ করা যায়, তাহলে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বলেন, ঋণের ফাঁদ, উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অসুস্থতা বা মৃত্যু শিশুকে কাজে পাঠাতে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে সার্টিফিকেটনির্ভর নয়, বাস্তব কর্মমুখী কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে শিশুরা ভবিষ্যতে দক্ষ ও স্বাবলম্বী নাগরিকে পরিণত হবে। বাস্তবতা মেনে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে বলে মনে করেন উপসচিব আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, দেশে শ্রম আইন, জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি, গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতি এবং সংবিধানসহ আন্তর্জাতিক কনভেনশনসহ বহু নীতি থাকলেও সমস্যা বাস্তবায়নে। বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু, শিক্ষা, শ্রম, স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। পাশাপাশি ঋণের ফাঁদে পড়া পরিবারগুলোকে সুরক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে আফজাল কবির খান বলেন, নগর প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম নির্মূল করতে হলে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় সরকার, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত এবং কমিউনিটির মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং শিশুকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূণ। এই গবেষণার ফলাফলকে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কৌশলে রূপান্তরের মাধ্যমে শিশুশ্রম প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও শিশুবান্ধব নগর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৬৯ শতাংশ শিশুশ্রমিক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অন্য যে কোন দেশের থেকে বাংলাদেশে শিশুশ্রমের হার বেশি। বিশ্বব্যাপী ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু জনসংখ্যার ৭.৮ শতাংশ শিশুশ্রমে নিযুক্ত থাকলেও বাংলাদেশে ৯.২ শতাংশ শিশু শ্রমের নিয়োজিত আছে। ওই সকল শিশুদের মধ্যে প্রায় ৪৭.৬৮ শতাংশ সপ্তাহে সাত দিন এবং ৪৬.৩৬ শতাংশ সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে। শিশু শ্রমিকদের সবচেয়ে বেশি ২৮.৪৮ শতাংশ পোশাক খাতসহ অন্যান্য শিল্প ও উৎপাদন কাজে জড়িত।
শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে সরকারের পাশাপাশি এনজিও এবং উন্নয়ন অংশীদাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও টেকসই কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। সচেতনতার অভাব, সামাজিক-সাংস্কৃতিক রীতিনীতি ও কুসংস্কার শিশুশ্রম নিরসন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করছে। তাই শিশুশ্রম নির্মূলের উদ্যোগগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বৃহত্তর নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। সমন্বিত নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন প্রক্রিয়া এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
গবেষণায় নগর এলাকায় শিশুশ্রম বৃদ্ধির বিদ্যমান জটিল ও পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণসমূহ তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে দারিদ্র্য, গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন, মানসম্মত শিক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকার, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রচলন এবং দুর্বল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি নগর এলাকায় শিশুশ্রমকে টিকিয়ে রাখার মূল কারণসমূহের গভীর বিশ্লেষণ এবং বিদ্যমান নীতি ও হস্তক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সকল বিষয়ে কৌশলগত সমাধান প্রশ্নে বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নমনীয় শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নগরভিত্তিক জীবিকায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে। এছাড়া নগর শিশুশ্রম টেকসইভাবে মোকাবিলার জন্য সমন্বিত ও বহুমুখী খাতভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: চলতি বছরেই দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যা ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদল ৬৯তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে যোগ দিতে আজ দিবাগত রাতে ঢাকা ত্যাগ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এমপি বলেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে এর বিরোধিতা করেছেন। অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শরি ...
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখে ডি ...
সব মন্তব্য
No Comments