দৌলতপুরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত: দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের

প্রকাশ : 12 Sep 2026
দৌলতপুরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত: দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের পানিবন্দী অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সেইসাথে বেড়েছে সাপের উপদ্রব, দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট।


গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় জলমগ্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুই ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে যোগাযোগের সব রাস্তা ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। বাড়ির আঙিনা ও ঘরে হাঁটুপানি অবস্থার সৃষ্টি হলে অনেকে ঘরের ভেতরে মাচায় ও টিনের চালায় অবস্থান নিচ্ছেন। পানিতে চরাঞ্চল টলমল অবস্থার সৃষ্টি হলে বৃহস্পতিবার থেকে ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই খোলা রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


এদিকে বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে নানা ধরনের দুর্ভোগ। সাপের উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।


রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার পানিবন্দী সোহেল আহমেদ জানান, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছি। বাড়ির উঠোনে হাঁটুপানি, ঘরের ভেতরেও পানি। বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই, কোথাও যেতে হলে নির্ভর করতে হচ্ছে নৌকা অথবা ডিঙির ওপর। পানি পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে পারছে না সন্তানেরা। সবমিলিয়ে মানবেতর অবস্থার মধ্যে রয়েছি।


পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।


এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, গতকালের (শুক্রবার) তুলনায় পদ্মার পানি আরও বেড়েছে। এতে বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।


ভুক্তভোগী বন্যার্তদের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির পর দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ বাড়লেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি তাদের মাঝে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা অফিস থেকে ছাড় না হওয়ায় অসহায় বানভাসীদের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।


এদিকে বন্যার্তদের ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও চিলমারী ইউনিয়নের পুরো এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। এবারের বন্যায় দুই ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলের জমি। গত বুধবার দুর্গত এলাকায় গিয়ে ৩৫০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরও ত্রাণের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগিরই পানিবন্দী ও দুর্গত মানুষের মধ্যে তা সরবরাহ করা হবে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) পদ্মা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার।


বানভাসী মানুষের দাবি, দুর্ভোগ লাঘবে ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারসহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।


সম্পর্কিত খবর

;