২০৩৩ সালে শেষ হবে কাজ

৩৩,৪৭৪ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে একনেকে অনুমোদন

প্রকাশ : 13 May 2026
৩৩,৪৭৪ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে একনেকে অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার: কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রথম ধাপে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।


বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়, এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় ছিল পদ্মা ব্যারাজ।


একনেক সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একনেকে উঠলেও অনুমোদন হয়নি।


দুই ধাপে বাস্তবায়ন, মোট ব্যয় ৫০ হাজার কোটির বেশি

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থায়ন, ঝুঁকি ও তদারকির সুবিধার্থে প্রকল্পটি দুই ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত চলবে।


প্রথম ধাপে ব্যারাজের মূল অবকাঠামো নির্মাণ, হিসনা-মাথাভাঙ্গা ও গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম পুনর্খনন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং সহায়ক অবকাঠামো তৈরি হবে।


রাজবাড়ীর পাংশা পয়েন্টে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, নেভিগেশন লক, দুটি ফিস পাস এবং ব্যারাজের ওপর রেলওয়ে সেতু। ব্যারাজ ও গড়াই অফটেকে হাইড্রো-পাওয়ার প্ল্যান্ট বসানো হবে। এতে জ্বালানিবিহীন প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।


এছাড়া কুষ্টিয়ায় গড়াই অফটেক, রাজবাড়ীর পাংশায় চন্দনা অফটেক ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হিসনা অফটেক নির্মাণ হবে। গড়াই-মধুমতি নদীতে ১৩৫.৬০ কিলোমিটার ও হিসনা নদী সিস্টেমে ২৪৬.৪৬ কিলোমিটার পুনর্খনন করা হবে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। শুষ্ক মৌসুমে ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে। এতে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদীতে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরবে।


প্রকল্পের প্রথম ধাপের আওতায় খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে। লবণাক্ততা কমবে, মৃতপ্রায় নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রকল্প থেকে বার্ষিক প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক রিটার্ন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর বাংলাদেশ অংশে পদ্মার পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এতে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী শুকিয়ে যায়। লবণাক্ততা বেড়ে কৃষি, মৎস্য, সুপেয় পানি ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।


বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাড়লে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তবে ব্যারাজের উজানে ক্ষয় এবং ভাটিতে পলি জমার মতো ঝুঁকি রয়েছে, যা উন্নত নকশা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।


সম্পর্কিত খবর

;