যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

প্রকাশ : 11 Jul 2026
যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত ২২ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বার্নহামই এখন দলীয় নেতৃত্ব ও ডাউনিং স্ট্রিটের শীর্ষ পদে বসার দৌড়ে একক ফেভারিট। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ডয়চে ভেলে ও দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে বার্নহামের নাম প্রায় চূড়ান্ত।


মাত্র দুই বছর আগে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা কিয়ার স্টারমার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া ও দলের ভেতরে চাপের মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষ হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যেই গত ১৯ জুন ম্যাকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরেন বার্নহাম। যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হতে হলে পার্লামেন্টের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক।


৫৬ বছর বয়সী বার্নহাম ২০১৭ সাল থেকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারে জুনিয়র মন্ত্রী, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ ও ২০১৫ সালে দুইবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামলেও জিততে পারেননি। মেয়র হিসেবে তিনি ম্যানচেস্টারের বাস নেটওয়ার্ক পুনরায় সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং করোনাকালে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তহবিল নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কে জড়িয়ে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ উপাধি পান।


বার্নহামের দপ্তর জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি লন্ডন থেকে অঞ্চলগুলোতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণকে প্রধান অগ্রাধিকার দেবেন। সোমবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি জীবনযাত্রার মান বাড়াতে ১০ বছর মেয়াদি পুনঃশিল্পায়ন, আবাসন, অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সংস্কারের পরিকল্পনার কথা বলেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ চাকরি ও শিল্পকে সহায়তা দিতে সরকারি ক্রয় নীতি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


প্রতিরক্ষা নিয়েও সরব বার্নহাম। দ্য টাইমসকে দেওয়া লেখায় তিনি বলেছেন, বিশ্ব আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান অভিযান এবং জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারে সাইবার হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বিদেশি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমানোর কথা বলেন। ইউরোপের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।


পররাষ্ট্রনীতিতে স্টারমারের চেয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বার্নহাম। গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যকে আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে। যুদ্ধবিরতির আহ্বানে ব্রিটেনের দেরি হওয়াকে তিনি সমালোচনা করেন এবং অবৈধ বসতির পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধসহ আরও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দেন।


লেবার পার্টির সম্ভাব্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ইতিমধ্যে বার্নহামকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে দলীয় নেতৃত্বের লড়াইয়ে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে জুলাইয়ের মধ্যেই বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সম্পন্ন হবে।


আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এক দশকে সাতজন প্রধানমন্ত্রী দেখা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে বার্নহামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের আস্থা ফেরাতে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও জনসেবা খাতের সংস্কারকে সামনে রেখেই তিনি ডাউনিং স্ট্রিটে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। 


সম্পর্কিত খবর

;