স্টাফ রিপোটার: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেছেন; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন এবং তিনি দেশের একটি মজবুদ ভিত সৃষ্টি করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন ২০৩০ সালের মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ বির্নিমানের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি একান্ত প্রয়োজন। পদ্মা সেতুর কল্যাণে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠাণের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। সার্বিক অর্থনীতিতেও বিপ্লব সুচীত হবে। পদ্মা সেতু একটি সুযোগ করে দিয়েছে, যে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সম্মুখ পানে এগীয়ে যেতে হবে। এই সেতু শুধু একটি সেতুই না এর সাথে মিশে আছে কোটি মানুষের আবেগ ভালোবাসা আর গর্ব। এ স্বপ্ন সারথির পেছনে ছিলেন বাঙ্গালির ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার মানুষ, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাহাড়সম ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতাকে পাশকাটিয়ে সমহিমায় পদ্মা সেতু আজ নতুন স্বপ্ন দেখতে সাহস যোগায়।
আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন আয়োজিত "পদ্মা সেতু: দক্ষিণাঞ্চলের স্বপ্ন বুনন" শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন; দুরত্বের ব্যবধান ঘুচিয়ে দক্ষিনাঞ্চল রাজধানী ঢাকার একেবারে পড়শিতে পরিণত করা পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেখিয়ে দিলেন-আমরাও পারি। বঙ্গবন্ধুর কন্যাদ বঙ্গবন্ধুর মতো একজন ভিশনারি লিডার। তিনি পদ্মাসেতু নির্মানের শুধু স্বপ্নই দেখেননি তার বাস্তব দেখতে চেয়েছিলেন। আজ পদ্মা সেতু স্বপ্ন নয় বাস্তব। দেশের উন্নয়ন, কল্যাণ ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে শেখ হাসিনা আপোষহীন । নিজ মেধা, বিচক্ষণতা ও পরিকল্পনায় একটির পর একটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের শিখরে। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। নতুন করে গড়ে উঠবে ভারি শিল্প কারখানা।
প্রধান বক্তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করীম বলেন; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাপান সফরে পদ্মা সেতু নির্মানের কথা বলেন। আর এখন বিএনপির নেতারা বলেন পদ্মা সেতুর প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নাকি তারা করেছেন। যদি তাই হয় তাহলে পদ্মা সেতু নিয়ে কেনো ষড়যন্ত্র করলো বিএনপি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা,দেশপ্রেম জনগণের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর সুদূরপ্রসারি চিন্তার ফসল এই সেতু। এই উপমহাদেশে দ্বিতীয় কোনো ভিশনারী রাষ্ট্রনায়ক নেই শেখ হাসিনার মতো। এক শেখ হাসিনা ছিলো বলেই কোটি মানুষের স্বপ্ন পুরন হয়েছে। এই পদ্মা সেতুর পুরো সুযোগ কাজে লাগাতে হবে দক্ষণাঞ্চলের জনগণকে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিবেশ তৈরী করতে হবে। একসময় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য জিনিস ঢাকার বাজারে পৌছানোর আগে পথেই নষ্ট হতো। এখন পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এসুযোগকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাতে হবে।
মন্ত্রী রেজাউল করীম বলেন, সেতু দ্বরা কি?কি? সুবিধা নেয়া যায় তার জন্য সাংবাদিকদের বড় ভুমিকা পালনের আহ্বান জানান । দুটি বন্দরসহ পর্যটনখাতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এর সাথে বাড়বে কর্মসংস্থান। বিএনপিসহ কিছু ব্যক্তির ষড়যন্ত্র অসুস্থ রাজনীতির কারনে পদ্মা সেতু নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত গড়ালো,কানাডার আদালত পদ্মাসেতুর দুর্নীতি একটি মনগড়া বলে উল্লেখ করেছে। তখনই প্রধানমন্ত্রী সিব্ধান্ত নিলেন পদ্মা সেতু হবে নিজস্ব অর্থায়নে। এমন একজন নেতা বঙ্গবন্ধুর পরে শেখ হাসিনাই, আরকেউ নয়। মন্ত্রী আহ্ববান জানান আসুন আমরা উন্নয়নের সাথে থাকী।
আনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রী আবদুল মান্নান বলেন; পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণাঞ্চলের নয় এটি বাংলাদেশ তথা বিশ্ব অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। বঙ্গবন্ধুর পরে সারা জাতিকে করেছে পদ্মা সেতু। একটি সেতুর জন্য কোটি মানুষের অপেক্ষা বিশ্বে আর কোথাও নেই। সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন; আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি যে কিনা সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিয়েছেন। একটি মানুষ গৃহহীন থাকবেনা এটা তারই ঘোষনা। পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণাঞ্চলের না এটা সমগ্র দেশের মানুষের অবদান। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ছিল শেখ হাসিনার ওপর। পদ্মা সেতু নির্মানের সাথে জড়িত সকল শ্রমিক ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী। এসময় তিনি ভোলা হতে বরিশাল পর্যন্ত সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন খাতে বিশেষ নজর দেয়ার আহবান জানান। এবং পাটশিল্প আবার ঘুরে দাড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করপন।
সংগঠণের সভাপতি তারিকুল ইসলাম মাসুমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি এমএম বাদশা। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার মীরা, বরগুনা সদর পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মহারাজ,ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব, এডভেঞ্চার শিপিং কর্পোরেশন এর এমডি নিজাম উদ্দিন,এনআরবিসি ব্যাংক লি: এর চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল,এমএম গ্রুপের এমডি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মঈন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠণের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব সৈকত।
স্টাফ রিপাের্টার: বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য জানানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই, বাংল ...
স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস ছুড়ে এবং লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ কর ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, দলের নাম কিংবা তাঁ ...
স্টাফ রিপোর্টার: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ ৭ নভেম্বর শনিবার বিকাল ৪ টায় জিপিও'র সামনে শহীদ কর্নেল তাহের ...
সব মন্তব্য
No Comments