স্টাফ রিপোর্টার: ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের ৩৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে সকল নির্মাণ শ্রমিক পরিবারকে সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান,শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বুধবার নীর তোপখানা রোডস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইনসাবের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
এ সময় উপস্থিত বক্তারা বলেছেন, দেশের সর্ববৃহৎ অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাত হলো নির্মাণ খাত। এই খাতে দেশে প্রায় ৪০ লক্ষের উর্দ্ধে নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছে। প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও রয়েছে আমাদের দেশের সমপরিমান নির্মাণ শ্রমিক। নির্মাণ আধুনিকতার সভ্যতা বিনির্মাণের মূল কারিগর। যাদের শ্রমে ঘামে জাতীয় অর্থনীতি বিকশিত হচ্ছে, দেশ মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তর হতে চলছে সেই নির্মাণ শ্রমিকরা এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সামাজিক সুরক্ষা নেই। এই সেইবে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অনেক শ্রমিক আহত বা নিহত হন। অনেকেই দুর্ঘটনায় সারাজীবনের জন্য কর্মক্ষম ও করেন। নির্মাণ শ্রমিকদের হয়রানী, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এর কোন প্রতিকার নেই।
নেতৃবৃন্দ বলেন দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান উচ্চগতিসহ সার্বিক জীবন ধারনের ব্যয় যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে একজন নির্মাণ শ্রমিকের পরিবার পরিজনসহ জীবন জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। সে প্রেক্ষিতে রেশনিং প্রথা চালুর মাধ্যমে চাল, ডাল, জেল আটা সর্বস্তরের নির্মাণ শ্রমিকদের ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করা বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং নির্মাণ শ্রমিকের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান। নির্মাণ সেক্টরের শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ছুটি, ওভারটাইম সুবিধা নেই। তাদেরকে নানাভাবে হয়রানী ও নির্যাতন করা হয়। তারা শ্রম আইনের নূন্যতম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সমান কাজ করলেও নারী নির্মাণ শ্রমিকদের কম মজুরী দেয়া হয়। নেতৃবৃন্দ কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত এবং পঙ্গুত্ববরণকারী শ্রমিকদের আইএলও কনভেনশন ১২১ মোতাবেক এক জীবনের সমপরিমান ক্ষতিপূরণ শ্রম আইন অন্তর্ভূক্ত ও শ্রমিকদের প্রদান করার দাবী জানান। নেতৃবৃন্দ দেশের প্রত্যেক নির্মাণ শ্রমিক পরিবারকে বর্তমান সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার জন্য দাবী জানান। নেতৃবৃন্দ সারাদেশে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য বাসস্থান, কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সভা প্রতিমাসে ১ বার রেশনিং ব্যবস্থা, সকল নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের হাজিরা খাতা, নূন্যতম মজুরি সম্মানজনকভাবে বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক কাজী মো. রুহুল আমিন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, ইনসাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুর রহমান আজিজ, জালাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শরীফ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলী হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিক আলী বিশ্বাস, অর্থ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, শিক্ষা ও সমাজ কল্যান সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ক্রীড়া সম্পাদক ইসরাফিল ভুইয়া প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে সারাদেশে নির্মাণ শ্রমিকদের সচেতন, সংগঠিত ও তাদের ন্যায্য অধিকারের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব)।
পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় সদর উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পৃথক ত ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : নারীদের গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগে বায়েজিদ মিঠু নামের এক যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৭ নভেম্বর) ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা শহরের মগড়া নদী উদ্ধারের নামে বৈধ জমির মালিকদের উচ্ছেদের চেষ্টা এবং নদী খনন প্রকল্পে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নদীতীরবর্তী ভূমির মালিকেরা। এ বিষয়ে হয়রানি বন ...
রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি : পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দুটি অবৈধ ইটভাটার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় অভিযানে বাঁধা ও মব সৃষ্টির অভিযোগে রাজিব হোসেন (৩৫) নামে স্থান ...
সব মন্তব্য
No Comments