স্ক্যালোনির চালে সুইস বধ
।। মুক্তার হোসেন নাহিদ ।।
আটলান্টার সেই অবিশ্বাস্য কামব্যাকের
রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি শ্বাসরুদ্ধকর মহাকাব্যের সাক্ষী
হলো বিশ্ব। মিশরের বিরুদ্ধে শেষ ১৩ মিনিটের সেই টর্নেডো বিজয়। আজ (১২ জুলাই) কোয়ার্টার
ফাইনালেও আর্জেন্টিনার সামনে শেষ ১৫ মিনিটের ঝড়ে ঘটে গেল অবিশ্বাস্য ঘটনা।
খেলার প্রথম ১০ মিনিটেই লিওনেল মেসির
কোর্নার কিক। ডি-বক্সের ভেতর থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালেস্টারের মাথা দিয়ে
সজোরে ছোঁড়া বল কোনোভাবেই ঠেকাতে পারে না সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। বল ঢুকে যায়
জালের ভিতরে। সঙ্গে সঙ্গে কানসাস সিটির এ্যারোহেড স্টেয়ামের গ্যালারিতে
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস। উল্লাস টিভি স্কিন ও বড় পর্দার সামনে বসা সারা
দুনিয়ার কোটি কোটি ভক্তদের। উল্লাসের মধ্যেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
প্রথমার্ধ থেকেই সুইসরা ডি-বক্সে যেন
এক দুর্ভেদ্য দেয়াল গড়ে তুলে। কিছুতেই আর সুইল জালে বল ঢুকাতে পারে না মেসি
বাহিনী। সুইসরা রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে এক মারাত্মক কাউন্টার-অ্যাটাক শুরু করে। ৬৭
মিনিটের মাথায় ড্যান এনডোয়ের গোলে খেলায় সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। গ্যালারিতে নীরবতা।
নীরবতা বিশ্বজুড়ে। তবে আর্জেন্টিনার কট্টর ভক্ত হিসেবে আমি মোটেও বিচলিত ছিলাম না।
আমার বিশ্বাস ছিল, শেষ হাসি আর্জেন্টিনাই হাসবে। একের পর এক আক্রমণ করেও মেসি
বাহিনী সুইসদের দুর্ভেদ্য দেওয়াল ভাঙেতে না পারায় ১-১ সমতায় খেলা গোড়ায় অতিরিক্ত
সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও যখন গোলের দেখা মিলছে না, তখনই আর্জেন্টাইন কোচ স্ক্যালোনি
চালায় জাদুকরি চাল। কিছুটা ক্লান্ত ডি-পলকে উঠিয়ে মাঠে নামান লাউতারো মার্টিনেজকে।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে মার্টিনেজ
ও এনজো ফার্নান্দেজদের তাণ্ডবে
খড়কুটোর মতো উড়ে যায়
সুইজারল্যান্ড। ক্লান্ত
সুইস ডিফেন্সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাঝমাঠ থেকে অধিনায়ক মেসির বাড়ানো এক নিখুঁত
থ্রু-বল ধরে বক্সের ভেতর জটলার মধ্য থেকে জাদুকরী ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১
ব্যবধানে এগিয়ে নেন লাউতারো মার্টিনেজ।
সুইসরা যখন আবারো সমতায় ফিরতে মরিয়া
হয়ে অল-আউট আক্রমণে ওঠে, ঠিক তখনই ম্যাচের ইনজুরি টাইমে কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে
লিসান্দ্রো মার্টিনেজের মাপা অ্যাসিস্টে এক দর্শনীয় শটে আর্জেন্টিনার পক্ষে
ম্যাচের তৃতীয় গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সুইজারল্যান্ডের ফুটবলারদের সব
প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচটি ৩-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ শেষের
বাঁশি বাজতেই মাঠ জুড়ে মেতে ওঠে আকাশী-সাদার বাঁধভাঙা উল্লাস। ম্যাসির গোল ছাড়াও যে
আর্জেন্টিনা বিজয়ী হতে পারে আজকের খেলা তার প্রমাণ। আসলে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিটি
খেলোয়াড়’ই এক এক জন মেসি।
পেলে-রোনালদোর উত্তরসূরীদের বিদায়ের এই বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা-মেসির উত্তরসূরীরা তাদের চিরচেনা ল্যাটিন ছন্দ আর আক্রমণাত্মক টর্নেডো সচল রেখে ফুটবল বিশ্বকাপকে তার আসল জৌলুস ফিরিয়ে দিল। অভিনন্দন আর্জেন্টিনা।
তাহমিদা খানম: আমরা যে শ্রেণিকক্ষের সঙ্গে পরিচিত—সামনে একজন শিক্ষক, পেছনে সারিবদ্ধ ডেস্কে বসে থাকা শিক্ষার্থীরা, নির্দিষ্ট সময়সূচি, পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা—তা কি কেবল শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুবিধার্থে তৈরি ...
সামীনা জান্নাত:বাংলার প্রকৃতি চিরকালই ঋতুবদলের রঙে রঙিন। ষড়ঋতুর এই দেশে এক ঋতু বিদায় না নিতেই আরেক ঋতু এসে নিঃশব্দে জায়গা করে নেয় প্রকৃতির আঙিনায়। শরতের কাশফুলের শুভ্র সৌন্দর্য ফিকে হওয়ার সাথে সাথে প ...
মানিক লাল ঘোষ:বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তি, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এই দুই ক্ষণজন্মা পুরুষ যেন একই সূত্রে গাঁথ ...
আসনাতুল আহাদ:আমরা যেন বসবাস করছি এক অদ্ভুত সমান্তরাল বয়ানে। প্রতিনিয়ত আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠছে অগণিত মানুষের চেনা মুখ আর পরিচয়ের তালিকা। তবু আমরা সব তৃপ্তির আড়ালে টের পাই ভেতরে ভেতরে মানুষ কতটা এ ...
সব মন্তব্য
No Comments