আল-মুগাইয়িরে কাঁটাতারের বেড়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ফিলিস্তিনি অভিভাবকরা। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামাল্লার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আল-মুগাইয়ির গ্রামের বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসসাম আল-আসাফ ভোর হওয়ার আগেই স্কুলে আসেন। সম্প্রতি স্কুলের চারপাশে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া এবং শক্তিশালী ফটক লাগানো হয়েছে। তিনি বিবিসিকে বলেন, "আমরা ভীত। শিক্ষার্থীরা ভয় পাচ্ছে, তাদের অভিভাবকরাও ভয় পাচ্ছেন।"
বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরেই শুধু আল-মুগাইয়ির গ্রামে বসতি স্থাপনকারী-সম্পর্কিত সহিংসতায় তিনজন স্কুল শিক্ষার্থীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এই কারণে স্কুলে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া বসাতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সহিংসতার মধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর আল-মুগাইয়িরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের অভিযানের সময় ১৬ ও ১৯ বছর বয়সী দুই ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হন। এর আগে গত ২১ এপ্রিল একই স্কুলের ফটকের কাছে ১৪ বছর বয়সী নবম শ্রেণির ছাত্র আওস হামদি নাসান গুলিতে নিহত হয়। সে সময় তার বন্ধুরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। একই ঘটনায় ইংরেজি শিক্ষক ওয়াহিদ আবু নাইমের ভাই জিহাদ আবু নাইম (৩৬) নিহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আল-মুগাইয়ির গ্রামটি চারদিক থেকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কয়েকটি ঘাঁটি দিয়ে ঘেরা। গ্রামে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে প্রায়ই অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়, যার ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক সময় বাইরে থেকে আসা শিক্ষকদের স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
শুধু আল-মুগাইয়ির নয়, পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকাতেও শিক্ষার ওপর হামলা বেড়েছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলে হাম্মামাত আল-মালেহ গ্রামে ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় অর্থায়নে নির্মিত একটি স্কুল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দক্ষিণ হেবরনের উম্ম আল-খায়ের গ্রামে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এবং ইউনিসেফ এই ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের এক তদন্ত কমিশন জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা 'ফিলিস্তিনিদের তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের বৃহত্তর দমনমূলক কৌশলের অংশ' এবং এতে শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার একটি ধারাবাহিক প্রবণতা রয়েছে।
একজন অভিভাবক হারুন বিশারা বিবিসিকে বলেন, সন্তানদের নিরাপদ বোধ করানোর জন্য তিনি নিজে স্কুলে এসেছেন। তিনি বলেন, "আমরা এ বছর আমাদের সন্তানদের নিয়ে বেশি ভয় পাচ্ছি। আমরা জানি স্কুলে পরিস্থিতি নিরাপদ নয়।"
ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে স্কুলে যাওয়া এখন আর শুধু পড়াশোনার বিষয় নয়, সন্তান নিরাপদে বাড়ি ফিরবে কি না সেই উদ্বেগ নিয়েই প্রতিদিন তাদের পথচলা শুরু করতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তরপ্রদেশে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬ থেকে ২২ জন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে প্রদেশটির বাগপত জেলার পূর্বাঞ্চলীয় ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই স্কুলশিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরী। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। স্থ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ৫ তলা বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। এতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে ৪০ থেকে ...
সব মন্তব্য
No Comments