ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘নানা ধারার বাংলা গান’
ধ্রুপদী টপ্পা, রাগভিত্তিক নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত থেকে শুরু করে উদাস করা বাউল ও সুফি সুর—বাংলা সংগীতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় রূপকে একই মঞ্চে প্রত্যক্ষ করল রাজধানীর গানপ্রেমী মানুষ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডির আঁলিয়স ফ্রসেঁজ দ্য ঢাকার ‘অডিটোরিয়াম নুভেল ভাগ’-এ আয়োজিত হয় একক সংগীতানুষ্ঠান ‘নানা ধারার বাংলা গান’।
মিউজিক আর্ট কমিউনিকেশনস ও আঁলিয়স ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সন্ধ্যায় এককভাবে গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী নির্ঝর চৌধুরী।
রেজিস্ট্রেশনকৃত সংগীতপ্রেমীদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৬টায় অডিটোরিয়াম পূর্ণ হয়ে ওঠে। আয়োজনের শুরুতে নিধুবাবুর ঐতিহ্যবাহী টপ্পার পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলা গানে মানবপ্রেমের সূচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। শিল্পী নির্ঝর চৌধুরী নিধুবাবুর কালজয়ী সৃষ্টি ‘টপ্পা সে কেন রে করে অপ্রণয়’ এবং ‘এই নিবেদন করি কালী’ গান দুটি একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন।
এরপর শিল্পী নজরুলগীতির ভাব ও সুরের জগতে প্রবেশ করেন। তিনি পরিবেশন করেন কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘আমার নয়নে নয়ন রাখি পান করিতে চাও কোন অমিয়’, ‘মরণ আমার শেষ কথা নয়’, ‘আর কোথা নয়’ এবং ‘আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন’। প্রতিটি গান পরিবেশনের সময় মিলনায়তনে করতালি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
রবীন্দ্রসংগীতের পর্বে সুরের মায়াজালে শ্রোতাদের নিয়ে যান শিল্পী নির্ঝর চৌধুরী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নিগ্ধ ও আধ্যাত্মিক ভাবের গান ‘আমার মল্লিকা বনে’, ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে’ এবং ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলেন।
অতুলপ্রসাদ সেনের শাস্ত্রীয় ভাবগম্ভীর ভজন ‘মুরলী কাঁদে রাধে রাধে’ পরিবেশনের পর তিনি মাটির সুর ও বাউল ভাবধারার কালজয়ী গান—‘কালারে কইরো গো মানা সে যেন আমার কুঞ্জে আসে না’ এবং ‘দেখেছি রূপসাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা’ পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আধুনিক ও সমসাময়িক জনপ্রিয় ধারার একাধিক বাংলা গান পরিবেশিত হয়। এ পর্বে শিল্পী নির্ঝর চৌধুরী শোনান ‘যে বাহানায় তাকে আটকে রাখো, সে বাহানায় আমাকে রাখো’, কালজয়ী রোমান্টিক গান ‘হয়তো তোমারই জন্য হয়েছি প্রেমে যে বন্য’, বিরহ ও আকুলতার সুর ‘না যেও না, রজনী এখনো বাকি’, মিষ্টি প্রেমের অনুভূতি ‘তুমি এসেছিলে পরশু, কাল কেন আসোনি?’, এবং হালের জনপ্রিয় ট্র্যাক ‘ঠোঁটের কোণায় মিষ্টি হাসি, চোখের কোণায় জল’ ও ‘এখন অনেক রাত, তোমার কাঁধে আমার নিঃশ্বাস’। গানগুলোর প্রতিটি সুর শ্রোতাদের বিমোহিত করে।
একক এই সংগীতসন্ধ্যায় বাদ্যযন্ত্রে অনন্য সঙ্গত দিয়ে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন যন্ত্রশিল্পীরা। বেজ গিটারে ছিলেন দীপু, একোস্টিক ও লিড গিটারে তুহিন এবং অর্কেস্ট্রা ও কাহনে চমৎকার সঙ্গত পরিবেশন করেন ডানো। তাঁদের আবহ ও ছন্দ সংগীতে প্রাণ পেয়ে ওঠে নির্ঝর চৌধুরীর গাওয়া প্রতিটি গান।
কে তুমি নন্দিনী আগে তো দেখিনি এই গানের মধ্য দিয়ে আবার নতুন কোন এক সন্ধ্যার সঙ্গীতময় আসরে আবারও শিল্পীকণ্ঠে গান শোনার প্রত্যাশায় রাত সাড়ে আটটায় বাংলা সংগীতের এই সুরময় পথচলার আবেগঘন ও উৎসবমুখর সমাপ্তি ঘটে।
-তাসকিনা ইয়াসমিন, লেখক ও সাংবাদিক।
তাহমিদা খানম: আমরা যে শ্রেণিকক্ষের সঙ্গে পরিচিত—সামনে একজন শিক্ষক, পেছনে সারিবদ্ধ ডেস্কে বসে থাকা শিক্ষার্থীরা, নির্দিষ্ট সময়সূচি, পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা—তা কি কেবল শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুবিধার্থে তৈরি ...
সামীনা জান্নাত:বাংলার প্রকৃতি চিরকালই ঋতুবদলের রঙে রঙিন। ষড়ঋতুর এই দেশে এক ঋতু বিদায় না নিতেই আরেক ঋতু এসে নিঃশব্দে জায়গা করে নেয় প্রকৃতির আঙিনায়। শরতের কাশফুলের শুভ্র সৌন্দর্য ফিকে হওয়ার সাথে সাথে প ...
মানিক লাল ঘোষ:বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তি, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এই দুই ক্ষণজন্মা পুরুষ যেন একই সূত্রে গাঁথ ...
আসনাতুল আহাদ:আমরা যেন বসবাস করছি এক অদ্ভুত সমান্তরাল বয়ানে। প্রতিনিয়ত আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠছে অগণিত মানুষের চেনা মুখ আর পরিচয়ের তালিকা। তবু আমরা সব তৃপ্তির আড়ালে টের পাই ভেতরে ভেতরে মানুষ কতটা এ ...
সব মন্তব্য
No Comments