বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট: জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না, বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই টাকার কোনো অভাব হবে না।’
বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা সকলে চোখ-কান খোলা রাখলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’
দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সবাই আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ নারী-পুরুষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।
পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন।
বিএনপিকে গণ-মানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল। সেই জন্যই বিএনপি বলে জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’
বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যখন জনগণ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ফুঁসে উঠেছিল, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশই আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা।’
‘আমরা খালেদা জিয়ার সৈনিক। এই দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক মাস আগে নির্বাচনী প্রচারের শুরুতে আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে বলেছিলাম, বিএনপি সরকার গঠন করলে চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আমি কথা রাখতে পেরেছি। আজ নারী শ্রমিকদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিলাম।’
তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে চা-বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
দেশকে এগিয়ে নিতে নারীদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম, সরকার গঠন করলে পর্যায়ক্রমে সব পরিবারের কাছে, বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। নির্বাচনের এক মাসের মধ্যেই আমরা কাজ শুরু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ঘর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। তিনজনের হাতে চেক তুলে দিয়েছি, বাকিদের কাছে প্রশাসনের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।’
‘আসুন, আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে, করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম বক্তব্য দেন।
ডেস্ক রিপোর্ট: মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয ...
স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫ ...
স্টাফ রিপোর্টার: দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করতে বড় ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যম ...
বিশেষ প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন ...
সব মন্তব্য
No Comments