শান্তনু দে:
১. দু’দশক আগে থেকে আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো’র সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ। দু’দশক পেরিয়ে ফের তালিবানি শাসনে আফগানিস্তান। আরও বেশি বিধ্বস্ত, বিপর্যয়ের মুখে আফগান জনগণ। তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’র নকশায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার শরিকরা ছুতো হিসেবে যে ‘স্বাধীনতা’, ‘নিরাপত্তা’, ‘গণতন্ত্র’ ও ‘শান্তি’র স্লোগান ব্যবহার করেছিল, আজ তা শূন্যগর্ভ প্রতিশ্রুতি, ফাঁকা আওয়াজে প্রমানিত।
২. কোনওরকম প্রতিরোধ ছাড়াই মার্কিন মদতপুষ্ট আফগান সরকার কার্যত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে তালিবানদের কাছে। দিনের আলোর মতো স্পষ্ট, এটি আসলেই সাম্রাজ্যবাদী দখলদারির একটি ‘সহায়ক ব্যবস্থা’ ছাড়া আর অন্য কিছু ছিল না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে, তখন তা ভেঙে পড়েছে তাসের ঘরের মতো।
৩. আফগান জনগণকে এই তুমুল অনিশ্চয়তা আর দুর্দশার মধ্যে ফেলে দেওয়ার জন্য দায়ী কে? দায়ী মার্কিন সরকার ও তার ইউরোপীয় শরিকরা। বুশ প্রশাসন ও তার ন্যাটো শরিকরা ২০০১ সালে যে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা মোটেই ছিল না ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’, কিংবা ‘গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা’। এই হস্তক্ষেপের একমাত্র লক্ষ্য ছিল মার্কিন একচেটিয়া কারবারের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক অঞ্চল, তার অপার প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ।
৪. আর যখন এই লক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে এবং মার্কিন বিদেশনীতির ফোকাস অন্যত্র ঘুরেছে, তখনই বাইডেন প্রশাসন গত এপ্রিলে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্লক-সহ চীন, রাশিয়ার মতো বড় শক্তির মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতার জেরে ওয়াশিংটনকে এখন তার সেনাবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করতে হচ্ছে বাল্টিক, কৃষ্ণসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরে।
৫. আফগানিস্তান আবারও তালিবানদের হাতে। ধর্মান্ধ জিহাদীদের হাতে। আটের দশকে যাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র-অর্থ দিয়ে লালন করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার শরিকরা। যাতে ব্যবহার করা যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। নয়ের দশকে আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্রের পতনের পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সিআইএ’র সহায়তায় দেশের নেতৃত্বে তালিবানদের উত্থান।
৬. তালিবানদের পুনরুত্থান এবং আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আজ মার্কিন প্রশাসন এবং ইউরোপীয় সরকারগুলির মায়াকান্না আসলেই নিরেট ভণ্ডামি। আজকের এই পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী।
ঋণ: নিকোস মোতাস
১৯৮৩, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আফগান মুজাহিদিনদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগন।-লেখক: কলামিস্ট ও সিনিয়র সাংবাদিক, কোলকাতা।
লুতুব আলি:ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ সকাল ১১টায় পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল এন রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মধ্য দিয়েই রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুট ...
আবুল বাশার মিরাজ:নদী আমাদের সভ্যতা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। “নদীমাতৃক বাংলাদেশ” নামটি কেবল কাব্যিক নয়, বাস্তবেরও প্রতিচ্ছবি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই নদীগুলোই আজ সবচেয়ে বেশি বিপ ...
লুতুব আলি:“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” – রবীন্দ্রনাথের এই অমর আহ্বানকে বুকে নিয়েই শনিবার, ৯ মে ২০২৬, বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে চলে ...
এ এম ইমদাদুল ইসলাম:রাত তখন অনেকটা গভীর। ঢাকার রাস্তাগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে আসছে, কিন্তু গুলিস্থান বাসস্ট্যান্ডে এখনো মানুষের কোলাহল রয়ে গেছে। সেই ভিড়ের মাঝেই ছোট্ট রাকিব দৌড়ে বেড়াচ্ছে কখনো যাত্রীকে ...
সব মন্তব্য
No Comments