আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন এইচএসসি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : 15 Jul 2026
আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন এইচএসসি শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে সময় বেঁধে দিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের অবরোধ তুলে নিয়েছেন আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন তারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছেড়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা জানান, আজ রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে ‘লং মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে।


আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ বলেন, ‘রাস্তা আটকে থাকায় জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা মানুষের ভোগান্তি চাই না। তাই আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করছি। আমাদের দাবি একটাই—শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। আজ রাত ১০টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে কাল সকাল ১০টায় সায়েন্সল্যাব থেকে লং মার্চ টু সচিবালয় হবে।’ ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা শাহবাগ ছেড়ে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে একদল শিক্ষার্থী রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়েন তারা। এরপর শিক্ষা ভবনের সামনেই প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।


শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান হামিম বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী তার পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। প্রতিটি প্রশ্নপত্রে ভুল থাকছে। মন্ত্রী বলেছেন যারা ভুল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, তারা পূর্ণ নম্বর পাবেন—যারা উত্তর করেননি, তাদের কী হবে? এভাবে পরীক্ষা হতে পারে না। আমরা তার পদত্যাগ চাই।’ শাহবাগে অবস্থানকালে রোহান হাসনাত জিহাদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের দাবি এখন একটাই—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে অবহেলা করছে, তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’


আন্দোলনের পেছনের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়ে তাদের ক্ষোভ রয়েছে। গত মঙ্গলবারও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেন তারা। ওইদিন রাত পৌনে ১০টার দিকে একদল শিক্ষার্থী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিক্ষোভ শেষ করেন। সেদিন তারা জানিয়েছিলেন, বুধবারের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত না করলে বেলা ৩টা থেকে ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী আজকের কর্মসূচি পালিত হয়।


এদিকে আজ ১৫ জুলাই দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের নির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষা হয়। তবে জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এ দিনের পরীক্ষা স্থগিত ছিল। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বাকি সব বোর্ডে পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ থাকায় পূর্বঘোষিত সময়সূচি বহাল রাখা হয়েছে।


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আগামীকালের কর্মসূচিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, জনদুর্ভোগ এড়াতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


সম্পর্কিত খবর

;