ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে প্রতি বছর নতুন করে ১২ হাজার শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৩ থেকে ৪ লাখ শিশু ক্যানসার রোগী আছে। যার ৮০ শতাংশই রয়েছে চিকিৎসার বাইরে। ২০০৩ সালে যেখানে বছরে নতুন ২০০ রোগী শনাক্ত হতো, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে ২২ শতে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ শিশু রক্ত রোগ ও ক্যানসার সোসাইটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ অবস্থা পরিবর্তনে জনসংখ্যা ভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রেশন, শুরুতেই রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা প্রদান ও চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে শিশু ক্যানসার বিষয়টি অন্তভুর্ক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন তারা।
চিকিৎসরা জানান, দেশে ৬৭ শতাংশ চিকিৎসা খরচ বোগীদের বহন করতে হয়। শিশু ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই খরচের ৮০ শতাংশই নিজের বহন করতে হয়। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ। চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য অনেকে নিরাময়যোগ্য ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা করাতে পারেন না। ভুল রোগ নির্ণয়, সময়মতো ভর্তি হতে না পারা, আবার হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাবসহ নানা কারণে ১০ শতাংশ রোগী মারা যায়। অন্যদেশে এই হার মাত্র ২/৩ শতাংশ।
বিএসএমএমইউর চিত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৩ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু ক্যানসার ও রক্তরোগ বিভাগ চালু করা হয়। ২১ শঘ্যার এ বিভাগে ১৯ মাসের ছেলে আজিজুল হাকিমের ক্যানসার চিকিৎসা করাচ্ছেন পারভিন আক্তার। তিনি জানান, তার ছেলের পাকস্হলিতে ক্যানসার হয়েছে। চিকিৎসা করছেন এখানে। ছেলে আগের চেয়ে ভালো, তবে কবে সুস্হ হবে তা জানা নেই। রাজশাহীর শামীমা আছেন দুই বছরের ছেলে আবিদকে নিয়ে। তার লিভারের টিউমার ক্যানসারে রূপ নিয়েছে।
তিনি জানান, নিজের খরচে তিন মাস ধরে চিকিৎসা করাচ্ছেন, দুই একটা ইনজেকশন শুধু হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায়। বাড়ির বাইরে থেকে চিকিৎসা করাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।
বিএসএমএমইউ কতৃর্পক্ষ জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য আসে। কিন্তু শঘ্যা খালি হওয়ার ভিত্তিতে মাত্র ৬-৭ জন রোগী ভর্তি হতে পারে। রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণ সম্পর্কে বিএসএমএমইউ-এর শিশু ক্যানসার ও রক্তরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ টি এম আতিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয় কার্যক্রম বাড়ার ফলে অধিকমাত্রায় রোগ নির্ণয় হচ্ছে। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনও বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি হওয়ার কারণে মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। তারপরও আমরা ৮০ শতাংশ রোগীকে সেবা দিতে পারি না।
আরো যেখানে মিলছে চিকিৎসা সুবিধা
ঢাকা শিশু হাসপাতালের হেমাটোলজি অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. সেলিমুজ্জমান জানান, বর্তমানে এই বিভাগে ২৪টি শঘ্যা আছে। প্রতিদিন চাপ বাড়ছে। সবাইকে তারা সেবা দিতে পারেন না। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম জানান, এখানে ৪০টি শঘ্যায় ক্যানসারের চিকিৎসা হচ্ছে। এখানে রোগ নির্ণয় করাসহ ৭০ শতাংশ ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রোগীর সঙ্গে আসেন বাবা-মা। ঢাকায় তাদের থাকার অনেক অসুবিধা হয়। তাদের কথা ভেবে যদি কোন আশ্রয়কেন্দ্র করা হতো তাহলে ভালো হতো। এছাড়া শিশুদের জন্য আলাদা রেডিওথেরাপি মেশিন হলে চিকিৎসা আরো ভালো হতো।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে এক সঙ্গে ৭টি মেডিক্যাল কলেজসহ জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটে শিশু ক্যানসার চিকিৎসা চালু করা হয়। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতালে শিশু ক্যানসারের চিকিৎসা তেমনভাবে শুরু হয়নি। তাই সচ্ছল পরিবার চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে যাচ্ছে।
দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সম্পূর্ণ চিকিৎসার ওপর জোর
ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড ক্যানসার কনসোর্টিয়ামের মতে, উন্নত দেশে বছরে ১০ লাখ শিশুর মধ্যে ১৬০ জন ক্যানসার আক্রান্ত হচ্ছে। উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশে এর সংখ্যা কম এমন কোন প্রমাণ নেই বলে জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ক্যানসার ও রক্তরোগ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সেই হিসেবে আমাদের দেশের শিশুর সংখ্যা অনুযায়ী প্রতি বছর ১২ হাজার রোগী ক্যানসার আক্রান্ত হয়। যারা সম্পূর্ণ চিকিৎসা করায় তাদের মধ্যে ৫৮ থেকে ৬০ শতাংশ রোগী ভালো হয়। ভালো হওয়াটা নির্ভর করে তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শেষ করার ওপর।
সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনের মতে, উন্নয়নশীল দেশে ২০ শতাংশ এবং উন্নত দেশে ৮০ শতাংশ রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হয়। এই গ্যাপ কমানোর জন্য ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্হা ‘গ্লোবাল চাইল্ড হুড ক্যানসার ইনিসিয়েটিভ’ গ্রহণ করে। এর উদ্দেশ্য সারা বিশ্বে শিশু ক্যানসার নিরাময় ৬০ শতাংশ অর্জন করা।
বাংলাদেশ শিশু রক্তরোগ ও ক্যানসার সোসাইটির মহাসচিব ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাক্তার একেএম আমিরুল মোরশেদ খসরু বলেন, রোগ নির্ণয়কে ঢাকা কেন্দ্রিক না করে প্রান্িতক পর্যায় ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারি ৮টি মেডিক্যাল কলেজে ৮টি ক্যানসার সেন্টার করার কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। সেখানে ২০টি করে শঘ্যা নিয়ে শিশু ক্যানসার বিভাগ করা হবে। এছাড়া ক্যানসারের ওষুধ সরকারের যতটা দেওয়ার সক্ষমতা আছে ততটা হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ নিতে পারছে না। বছরের শুরুতে কত ওষুধ লাগবে তা জানালে অনেক ওষুধই পাওয়া সম্ভব।-ইত্তেফাক
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ রবিবার, ১০ মে পর্যন্ত হামের উপসর ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল অফিস: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে এ হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।শুক্রবার (৮ ম ...
ডেস্ক রিপোর্ট: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল শুক্রবার সকাল আটটা থেকে আজ শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৬ এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৪৮৯ জন। ১৫ মার্চ থে ...
স্টাফ রিপোর্টার: ‘থ্যালাসেমিয়া অদৃশ্য আর নয়, অজানাদের খুঁজি ও সহযোগিতার হাত বাড়াই’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) পালিত হয়েছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬। দিবস ...
সব মন্তব্য
No Comments