সংসদে প্রশ্নোত্তর

এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : 13 Jul 2026
এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীর দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৮৭৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৫ হাজার ৩০২ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭টি পদ।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি সংকট রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, এ খাতে অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৬ হাজার ২৮৩ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদ। এর মধ্যে পরিবারকল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) পদের ৮ হাজার ২৯৩টি, পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) পদের ৩ হাজার ১৬১টি এবং স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ) পদের ৬ হাজার ৯৫৩টি শূন্য রয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদের ৫৪০টিও খালি রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শূন্য পদ পূরণ সরকারের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। চিকিৎসক সংকট নিরসনে ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএসে এক হাজার ৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসে এক হাজার ৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬৫০ জন সহকারী সার্জন নিয়োগের কাজ রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। দশম গ্রেডের মিডওয়াইফ নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে পদায়নের প্রস্তুতি চলছে।

মানসিক রোগীদের ৯২ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে : প্রশ্নোত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের ৯২ শতাংশের বেশি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ (২০১৮-১৯) অনুযায়ী, দেশের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু-কিশোর কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র এক দশমিক ১৭ জন। সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন। তিনি আরো জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশেষায়িত সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’ এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলপত্র (২০২০-২০৩০) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ১০ জেলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে। এছাড়া চার জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি ও টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকে ৫৪০ সিএইচসিপি পদ শূন্য : সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এসব ক্লিনিকে ১৩ হাজার ৯২০ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কর্মরত আছেন। শূন্য রয়েছে ৫৪০টি পদ। 

দ্রুত এসব পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ক্লিনিকে ২০ ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও গ্লুকোমিটার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, নেবুলাইজার, পালস অক্সিমিটার, ইউরোস্টিকসসহ কয়েকটি সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে জাইকার অর্থায়নে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগসহ ল্যাপটপ সরবরাহ করা হবে।


সম্পর্কিত খবর

;