মোংলা থেকে মো. নূর আলমঃ শ্রদ্ধা, গান, কবিতা আর আলোচনায় ২১ জুন মঙ্গলবার মোংলার মিঠাখালীতে তারুণ্যের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সকাল ৯টায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সংসদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা সহকারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর রুদ্রের বাড়িতে দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শিরিয়া বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যাপীঠে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও রুদ্রের অনুজ সুমেল সারাফাত । মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় আরো আলোচনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মোংলা শাখার সভাপতি নূর আলম, সাধারণ সম্পাদক গীতিকার মোল্লা আল মামুন, চালনা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন প্রমুখ । অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক।
আলোচনা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি করেন রেশমা আক্তার ঝুমুর। সংগীত পরিবশেন করেন যুথী খাতুন ও রুদ্রের গড়া সংগঠন অন্তর বাজাও।
সভায় বক্তারা বলেন, রুদ্র ছিলেন তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক। সমাজের সকল বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছেন। দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে উঠেছে তারুণ্যের হাতিয়ার। বুদ্ধিবৃত্তিক আপোষকামিতায় দেশ যখন আকন্ঠ নিমজ্জিত, সত্য যখন নির্বাসনে এই রকম অস্থির সময়ে রুদ্রকে আমাদের নিজেদের জন্যে, দেশের জন্যে খুব প্রয়োজন ছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন রুদ্র তার কবিতা, গান নিয়ে বেঁচে থাকবেন।
প্রসঙ্গত, মাত্র ৩৫ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবন-সীমায় রুদ্র রচনা করেন সাতটি কাব্যগ্রন্থ-‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১), ‘মানুষের মানচিত্র’(১৯৮৪), ‘ছোবল’ (১৯৮৭), ‘গল্প’ (১৯৮৭) ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ (১৯৮৮) এবং ‘মৌলিক মুখোশ’(১৯৯০)। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী পরিস্থিতিকে অবলম্বন করে তিনি ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ নামে একটি কাব্যনাট্কও রচনা করেন। এছাড়া তিনি বেশ কিছু গল্প লিখেছেন।
তার রচিত ও সুরারোপিত ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’- গানটি দুই বাংলায় অসম্ভব জনপ্রিয়। ১৯৮৭সালে তসলিমা নাসরীনের সাথে বিচ্ছেদের পর মোংলায় বসে তিনি এ গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন।
স্টাফ রিপোর্টার: মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির একদিন পরই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে শুনানি শেষে ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার খালিয়াজুরীর হাওড়ঘেরা জনপদ বল্লী গ্রামে জন্ম তাঁর। শৈশব-কৈশোর কেটেছে হাওড়ের প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাপন ও লোকজ সংস্কৃতির আবহে। সেই শেকড়ের টান আর সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাস ...
মহাসিন মিঞা লিটন, বরিশাল অফিস: গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য নৌকা বাইচকে ঘিরে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় বরিশালের উজিরপুর। ঢাকঢোলের বাদ্য, বৈঠার ছন্দ আর লাখো দর্শকের উচ্ছ্বাসে শনিবার (৩১ অক্টোবর) মুখরিত হয় ...
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপির মা মরিয়ম বেগম মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থ ...
সব মন্তব্য
No Comments