ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা সংক্রামন রোধে দেশব্যাপী চলমান লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিন আজ চলছে। করোনার সংক্রমণ রোধকল্পে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছেন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র সদস্যরা। লকডাউনের শুরু থেকেই বিভিন্ন জায়গায় টহল দিতে দেখা গেছে তাদের। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্টে বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা বাড়ছে। গত পাঁচ দিনের তুলনায় আজ মঙ্গলবার সড়কে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কিছুটা বেশি দেখা গেছে। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে যানজটও লক্ষ্য করা গেছে। তবে চেকপোস্টে কড়াকড়ি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রিকশা আর ভ্যানে করে মানুষ নিজের গন্তব্যে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। লকডাউনের শর্ত অনুযায়ী এসব কর্মীদের জন্য প্রতিষ্টানের নিজস্ব যানবাহনের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও কেউ তা করেনি। ফলে রিকশা বা হেঁটেই তারা গন্তব্যে যাচ্ছেন। এছাড়া রাজধানীতে গতকাল আজ বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মানুষ আরও বেশী বের হচ্ছে।
একই চিত্র বাসাবো ও মানিকনগর এলাকার। এখানকার অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ মতিঝিলের বিভিন্ন অফিস চাকরি করেন। এসব এলাকায় রিকশা ও ভ্যানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িও দেখা গেছে। সকাল থেকে নগরীর ফকিরাপুল, রাজারবাগ, মালিবাগ চৌধুরী পাড়া, বাড্ডা, দৈনিক বাংলা, বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকাতেও এমন চিত্র দেখা গেছে।
লকডাউনের শুরুতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অযৌক্তিক কারণে বাইরে বের হওয়ায় রাজধানীতে প্রথম দিন ৫৫০ এবং দ্বিতীয় দিন ৩২০, তৃতীয় দিন ৬২১, এবং চতুর্থ দিনে ৬১৮, ও পঞ্চম দিনে ৫০৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে র্যাবের অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দেশব্যাপী বৃহস্পতিবার ১৮২ জনকে জরিমানা ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং দ্বিতীয় দিনে শুক্রবারের অভিযানে ২১৩ জনের জরিমানা ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৪০ টাকা আদায় করা হয়। লকডাউনের তৃতীয় দিনে ৩৪৬ জনকে ১ লাখ ৬ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানাও করা হয় বলে জানায় ডিএমপি।
অপরদিকে লকডাউনের তৃতীয় দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় সারা দেশে ২৭৭ জনকে প্রায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে র্যাব। সারা দেশে ৩১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এই অর্থদন্ড প্রদান করেন।
লকডাউনের চতুর্থ দিনে অযৌক্তিক কারণে বাইরে বের হওয়ায় ৬১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৬১ জনকে ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ডিএমপি ট্রাফিক কর্তৃক ৪৯৬টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করে ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে ৪৩৮ জনকে ৪ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করেছে র্যাব।
বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে ঢাকায় ৫০৯ জন গ্রেফতার ও ২৮৭ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়ায় রাজধানী ঢাকায় ৫০৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএমপি’র আটটি ক্রাইম ও ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। মোবাইল কোটে ২৮৭ জনকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন আইনে ৫২৬ টি গাড়িকে ১২ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করেছে।
এদিকে র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে দেশব্যাপী র্যাবের ১৯০টি টহল ও ২০৬টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। বিনা প্রয়োজনে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে র্যাবের জনসচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি চলমান ছিল।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও র্যাব জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সারাদেশে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। বিনা প্রয়োজনে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় অহেতুক ঘোরাফেরা করা, মাস্ক পরিধান না করা, মোটর সাইকেলে দু’জন আরোহণ করাসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ অমান্য করায় সারাদেশে পরিচালিত ৪২টি ভ্রাম্যমান আদালতে ৩৫০ জনকে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬১৫ টাকা জরিমানা করা হয়।
কঠোর বিধিনিষেধ চলার পঞ্চম দিন পর্যন্ত ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ২ হাজার ৮শ’ ২৫ জনকে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ জরিমানা করেছেন। জরিমানার টাকা দিতে না পারায় কারাগারে পাঠিয়েছেন ৭৫ জনকে। আর সাধারণ ক্ষমা করেছেন ১৬৩ জনকে।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ২৬৩, শুক্রবার ৬২৯, শনিবার ৬০৭, ও রোববার ৬৩৬, এবং সোমবার ৬৯০ জনকে জরিমানা করা হয়।
এদের মধ্যে জরিমানার টাকা দিতে না পারায় বৃহস্পতিবার ৩, শুক্রবার ৫৪, ও শনিবার ১৮ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। রোববার জরিমানার টাকা দিতে না পারায় ৯৩ ও সোমবার ৭০ জনকে সাধারণ ক্ষমা করেছেন আদালত।
কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে গত ১ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। সোমবার পুণরায় আগামি ১৪ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে নতুন করে প্রজ্ঞাপণ জারি করেছে সরকার।
স্টাফ রিপোর্টার: ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। রোববার (৮ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের (বিবিএন) মধ্যে আঞ্চলিক ঐক্য জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয় ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রয়াত স্বজনের মুখচ্ছবি। কেউ পরিষ্কার করেছেন সমাধি, কেউ ব্যস্ত ছিলেন মঠ ধোয়া-মোছায়। কোথাও নতুন রঙের প্রলেপ, আবার কোথাও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে সম ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছিল বলে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয ...
সব মন্তব্য
No Comments