নরসিংদীর শিবপুরে ৩ মাত্রার
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ০। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী জেলার শিবপুর এলাকায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ঢাকার আগারগাঁও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে। এর উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে।
ভোরের দিকে সংঘটিত হওয়ায় নরসিংদী ও এর আশপাশের এলাকায় কম্পন তুলনামূলকভাবে অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। রাজধানী ঢাকার কিছু এলাকাতেও মৃদু কম্পন টের পাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও বড় ধরনের আতঙ্ক, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের মাত্রা ৩ দশমিক ০ হওয়ায় এটিকে মৃদু ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাধারণত এ ধরনের কম্পনে বড় ধরনের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। তবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি শুধু মাত্রার ওপর নির্ভর করে না; ভূমিকম্পের গভীরতা, উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকার মাটির ধরন, ভবনের নির্মাণমান এবং জনবসতির ঘনত্বও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ায় এর কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে অগভীর ভূমিকম্প হলে কম্পনের প্রভাব কাছাকাছি এলাকায় বেশি টের পাওয়া স্বাভাবিক। এ ভূমিকম্পটির গভীরতা ১০ কিলোমিটার হওয়ায় এটি অগভীর প্রকৃতির ভূমিকম্পের মধ্যে পড়ে।
বাংলাদেশ ও এর আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় মাঝেমধ্যেই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পের দিক থেকে তুলনামূলক সক্রিয়। তবে দেশের মধ্যাঞ্চল, ঢাকাসহ আশপাশের এলাকাতেও বিভিন্ন সময়ে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট মাত্রার ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে এসব কম্পনকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার একটি অনুস্মারক হিসেবে দেখা প্রয়োজন। বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নির্ভুলভাবে দেওয়ার বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বর্তমানে নেই। ফলে ভূমিকম্পের সময় কীভাবে নিরাপদে থাকা যায় এবং ভবনগুলো কতটা ভূমিকম্প সহনশীল—এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভেতরে থাকলে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে বাইরে বের না হয়ে শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখা নিরাপদ বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। জানালা, কাচ, ভারী আসবাবপত্র এবং ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকা জরুরি। কম্পন থামার পর পরিস্থিতি বুঝে নিরাপদে ভবন থেকে বের হতে হবে।
এদিকে, সোমবার ভোরের এ ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নতুন কোনো কম্পন বা আফটারশক অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সময়ে সময়ে অল্প মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। নরসিংদীর শিবপুরে সর্বশেষ এই কম্পনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে কোনো ভূমিকম্পের পর পরবর্তী সময়ে আরও কম্পন হবে কি না, তা নির্দিষ্টভাবে আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।
ফলে সোমবারের মৃদু ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ভূমিকম্পঝুঁকি মোকাবিলায় ভবনের নিরাপত্তা, জরুরি প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে
স্টাফ রিপোর্টার: ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। রোববার (৮ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের (বিবিএন) মধ্যে আঞ্চলিক ঐক্য জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয় ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রয়াত স্বজনের মুখচ্ছবি। কেউ পরিষ্কার করেছেন সমাধি, কেউ ব্যস্ত ছিলেন মঠ ধোয়া-মোছায়। কোথাও নতুন রঙের প্রলেপ, আবার কোথাও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে সম ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছিল বলে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয ...
সব মন্তব্য
No Comments