বিএমইউতে ন্যাশনাল ইয়াং হেলথ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 11 May 2026
বিএমইউতে ন্যাশনাল ইয়াং হেলথ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যেগে আয়োজিত ন্যাশনাল ইয়াং হেলথ কনফারেন্স ২০২৬ সফলভাবে ১০ মে ২০২৬ তারিখে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনটি তরুণ জনগোষ্ঠী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে বাংলাদেশে তরুণদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। 


বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা/সাস্টেইনাবলে ডেভেলপমেন্ট গোল (SDGs) এবং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (UHC) অর্জনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় এনে সম্মেলনে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সুশাসনে অর্থবহ যুব অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 


আলোচনায় দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু ঝুঁকি, সামাজিক বৈষম্য এবং অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা কীভাবে কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলে প্রভাব ফেলছে তা তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, পুষ্টি, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার এবং সহিংসতা থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। 


সম্মেলন জুড়ে প্লেনারি সেশন, কুইজ প্রতিযোগিতা, ওরাল ও পোস্টার উপস্থাপনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে কিশোর ও তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। আলোচনার মূল থিমগুলো ছিল- যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (SRH), পুষ্টি, অসংক্রামক রোগ (NCDs) ও জীবনধারা পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, তরুণদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংসতা, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং জলবায়ু পরিবর্তন। সেশনগুলোতে তরুণবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সহিংসতা প্রতিরোধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি এবং জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। 


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ’র ডিপিএইচআই-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আতিকুল হক, পিএইচডি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক), অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন), অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, কোষাধ্যক্ষ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাসুম আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব হেলথ ডা. মালালাই আহমাদজাই। 


সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যুব সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ২০০-এর অধিক তরুণ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং অর্থবহ যুব অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্য উন্নয়নই ছিল এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। 


ন্যাশনাল ইয়াং হেলথ কনফারেন্স ২০২৬ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনীতি, সেবা ও উদ্ভাবনে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক এবং তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে এই সম্মেলন তরুণদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে এগিয়ে নেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। 


সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান, চেয়ারপার্সন, পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. ফারজানা ইসলাম, পিএইচডি এবং ডা. মোঃ শহিদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি।

সম্পর্কিত খবর

;