অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাট উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং পাট জাগ দেওয়ার সময় খাল-বিলে প্রয়োজনীয় পানি থাকায় এবার ফলন ও পাটের গুণগত মান ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান বাজারদর ধরে রাখা গেলে উৎপাদিত পাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে চাষাবাদে সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উপকরণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭২ হেক্টর বেশি জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।
জেলার কানাইপুর, নালেরমোড়, তালমা, কাদিরদী, সাতৈর ও বড়গাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে জাত ও মানভেদে প্রতি মণ পাট বর্তমানে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এই দর অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে উৎপাদিত পাটের মোট বাজারমূল্য ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূল ছিল। পাট জাগ দেওয়ার সময় খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি থাকায় আঁশের রং ও গুণগত মানও ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ফলন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তিতে নেই পাটচাষিরা। তাদের ভাষ্য, গত কয়েক বছরের তুলনায় সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে পাটের বর্তমান বাজারদর দিয়ে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সালথার পাটচাষি সাইফুল ইসলাম, নাছির হোসেন ও আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে লাভ করা কঠিন হবে। এমনকি লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে কৃষকেরা পাট চাষে আরও আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এ অর্থকরী ফসলের উৎপাদনও বাড়বে।
স্টাফ রিপোর্টার: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে সার্ক কৃষি কে ...
আহাছানুল মতিন নান্নু, বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ৭০ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন তিন যুবক। তাদের বাগানে ৭০০টির বেশি গাছ রয়েছে, ইতোমধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেত্রকোণার মদন উপজেলায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা (এগ্রোইকোলজি), জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ববিষয় ...
স্টাফ রিপোর্টার: দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করার লক্ষ্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্র ঢাকায় ১৮তম পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বোর্ড) সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজ ...
সব মন্তব্য
No Comments