আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখন নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন। দলের ভেতর থেকে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পদত্যাগ করবেন না। শুক্রবার লন্ডনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি সরছি না। যদি নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তাহলে আমি দাঁড়াব, আমি লড়ব”।
স্টারমারের এই ঘোষণার পেছনে মূল কারণ ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থান। গত বৃহস্পতিবার উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে ৫৪.৮% ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বার্নহ্যাম। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি পার্লামেন্টে ফিরে আসার পথ পরিষ্কার করেছেন এবং স্টারমারের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে চলে এসেছেন। বিবিসি নিউজের ব্রেকিং গ্রাফিকে দেখা যায়, স্টারমার বলছেন নেতৃত্বের নির্বাচন হলে তিনি লড়বেন।
২০২৪ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই বছরের মাথায় স্টারমার দলের ভেতর-বাইরে চাপে পড়েছেন। মে ২০২৬-এর স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে বড় ধরনের ভরাডুবির মুখে পড়ে। এরপর থেকেই দলের অন্তত ১০০ জন এমপি তাঁকে পদত্যাগ করতে বা সময়সীমা ঘোষণা করতে বলছেন। ‘দ্য টাইমস’ ঘরানার একটি গ্রাফিকে দাবি করা হয়, “১০০ লেবার এমপি স্টারমারকে পদত্যাগ করতে বলেছেন”। জুনের মাঝামাঝি চারজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও চারজন মন্ত্রীর সহকারী পদত্যাগ করেন।
আবাসনমন্ত্রী স্টিভ রিড জানান, স্টারমার আগেই স্পষ্ট করেছেন যে কোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ এলে তিনি লড়বেন। তবে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যরা চাইছেন, তিনি ‘সময়সীমা’ ঠিক করে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করুন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও একই ধরনের মত দিয়েছেন বলে দ্য টাইমস জানিয়েছে।
বার্নহ্যামের জয় শুধু স্টারমারের জন্যই হুমকি নয়, পুরো যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টারমার পদত্যাগ করলে ব্রিটেন এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাবে, যা গত দুই শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, “একটি উপনির্বাচন জিতে লন্ডন দখলের অভিযান, ব্রিটেনের আধুনিক ইতিহাসে এমন নজির নেই”।
স্টারমার অবশ্য নিজের অর্জনের তালিকা তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অর্থনীতি স্থিতিশীল করা ও স্বাস্থ্যসেবার অপেক্ষার সময় কমানোর মতো কাজ করেছেন। আগামী ২২ জুলাই ব্রাসেলসে তিনি ইইউর সঙ্গে খাদ্য রপ্তানি, যুব চলাচল ও বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিয়ে নতুন চুক্তি করতে যাচ্ছেন।
তবে জনমত ও দলের ভেতরের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হচ্ছে। উইকিপিডিয়ার ‘২০২৬ লেবার পার্টি লিডারশিপ ক্রাইসিস’ এন্ট্রিতে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, ইউ-টার্ন ও একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে। ডেইলি স্টার দাবি করেছে, স্টারমার ‘পদত্যাগের দ্বারপ্রান্তে’, যদিও তিনি প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেছেন।
স্টারমার কর্মীদের উদ্দেশে সতর্ক করেছেন, “নিজেদের মধ্যে লড়াই করে দল ও দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলা যাবে না”। তবুও সামনের দিনগুলোতে ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচন ও সম্ভাব্য নেতৃত্ব লড়াই ব্রিটিশ রাজনীতিকে নতুন মোড় দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্টারমার নিজেকে ১০ বছরের প্রকল্প হিসেবে দেখছেন এবং বলেছেন, ২০২৪ সালে যে কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তা শেষ না করে সরবেন না। এখন দেখার বিষয়, দলের ভেতরের বিদ্রোহ ও জনমতের চাপ সামলে তিনি কতদিন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে টিকে থাকতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানে এক রাতের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এ ঘটনায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। পরেরটি ছিল ৪ দশমি ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ দেশটির নতুন সরকার গঠনের জন্য সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান নৌ-অবরোধের পর এবার দেশটির স্থল সীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে পরমাণু বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ২ ক ...
সব মন্তব্য
No Comments