ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : 19 Jun 2026
ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির (Islamabad Memorandum of Understanding) অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূল থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের বন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়া সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে চুক্তির সব শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। 


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে। চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেবে। শরিফ আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটবে। 


১৪ দফার ওই সমঝোতা চুক্তিতে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ, লেবাননসহ সব অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানো এবং ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেবে এবং চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নেবে। 


অন্যদিকে ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য বিনা শুল্কে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে মাইন অপসারণ করে প্রণালীতে স্বাভাবিক চলাচল পুনরায় চালু করবে। ইরান আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে আলোচনা করবে। 


চুক্তিতে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করা, তেল রপ্তানিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ছাড়পত্র এবং ইরানের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়া, ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা এবং অর্থনৈতিক ছাড়ের মাধ্যমে ইরানের আচরণে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। 


ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত তহবিলে প্রবেশাধিকার দেবে এবং ইরানের জাহাজ ও বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে। এর বিনিময়ে ইরান উপসাগর ও ওমান উপসাগরে যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। 


সমঝোতা চুক্তিটি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন শাহবাজ শরিফ। চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা রয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;