পুলিশ সপ্তাহ

বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ : 10 May 2026
বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান: রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক রিপোর্ট: রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আজ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে নিম্নোল্লিখিত বাণী প্রদান করেছেন:

“পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

দেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ পুলিশ।

আমি মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে যে সকল বীর পুলিশ সদস্য দেশ ও জনগণের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই ও রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, মানুষের জানমালের সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে।

বিভিন্ন জাতীয় আয়োজন ও ক্রান্তিকালীন সময়েও পুলিশ বাহিনীর নৈর্ব্যক্তিক, পেশাদার ও জনবান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ সততা ও দক্ষতার সাথে ভূমিকা পালন করেছে। এ জন্য পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরণ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। সাইবার স্পেস, এআই ও ডিপফেক ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তি-মিথ্যাচার, চরিত্রহনন, জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আর্থিক প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, মাদকদ্রব্য পাচার, মানবপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের এআই, ডেটা অ্যানালিটিক্স, সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল ফরেনসিকস-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বাহিনীর ভাবমুর্তিকে সমুন্নত রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারকরণ, সেবামুখী মনোভাব গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার মাধ্যমে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে হবে।

সরকার পুলিশ বাহিনীর যথাযথ মানোন্নয়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে একে সেবামূলক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমি আশা করি, বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জ্ঞান, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেদের নতুন বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল ভিত্তি। আমি আশা করি, বাংলাদেশ পুলিশ আরও মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে নিজেদেরকে একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে এবং আইনের শাসন সুসংহত করতে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আমি পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা ও বাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”


সম্পর্কিত খবর

;