পটুয়াখালী বাস-অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৪, আহত ১০

প্রকাশ : 20 Sep 2026
পটুয়াখালী বাস-অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৪, আহত ১০


বরিশাল অফিস: পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও মেয়েসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজার সংলগ্ন দলু বা ধলুগাজীর মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান পরিবহন বা ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস দলুগাজীর মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাস ও অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পটুয়াখালী শহর থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুরের দিকে যাচ্ছিল। 


দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়, হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে এনটিভি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর একজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। 


নিহতদের পরিচয় নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি থাকলেও পরে সিআইডির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী নিহতরা হলেন- গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইয়ুম প্যাদা (৫০), একই উপজেলার চর আনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩)। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, নিহত শিল্পী রানী ও তিথি রানী সম্পর্কে মা ও মেয়ে এবং চারজনই গলাচিপা অঞ্চলের বাসিন্দা। 


দুর্ঘটনার পর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন এবং বাসটি খাদে পানিতে পড়ে যায়। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছে কিনা বা পানিতে আর কোনো মরদেহ আছে কিনা তা দেখতে দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালায়। 


আহতদের মধ্যে বাসের যাত্রী সালমান বলেন, বাসটি শুরু থেকেই খুব রাফ চালাচ্ছিল। তারপর কীভাবে কি হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। আরেক যাত্রী আবির ইসলাম বলেন, আমরা ঢাকাতে তাবলীগ জামাতে যাচ্ছিলাম। বাসটি এখানে এসে খাদে পড়ে যায়। আমরা ভিতরে বসে ভাবছিলাম এই মনে হয় জীবনের শেষ। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


সম্পর্কিত খবর

;