এক বছরে ৪১% বেড়ে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা ছাড়াল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা

প্রকাশ : 19 Jun 2026
এক বছরে ৪১% বেড়ে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা ছাড়াল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট: এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুসারে, ওই দেশের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ২০২৫ সালের এই আমানত বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান। বৃহস্পতিবার ১৮ জুন প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জমা ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে এটি ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ, অর্থাৎ এক বছরে অর্থ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। প্রবাসীর দিগন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালেই বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ শতাংশ।


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট তহবিল সুইস ব্যাংকগুলোতে ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ থেকে বহুগুণ বেশি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, ২০২৩ সালে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও ব্যাংকের জমা ছিল মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বনিম্ন।


বিশ্লেষকরা এই উল্লম্ফনের পেছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে কারণ হিসেবে দেখছেন। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা মূলধনের বহির্গমন ঘটাতে পারে, যখন রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নিতে চেয়েছেন”। তিনি আরও বলেন, “সুইস ব্যাংকের যে গোপনীয়তা ছিল তা এখন আর নেই। দুবাই থেকে আয়ারল্যান্ড পর্যন্ত নতুন নিরাপদ গন্তব্য তৈরি হয়েছে”।


সুইস ব্যাংকের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশিদের নামে জমা অর্থের মধ্যে ব্যাংক, ব্যক্তি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস লিখেছে, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধ আয়ের হিসাবও এতে থাকে। ফলে সব অর্থ অবৈধ বা কালো টাকা বলার সুযোগ নেই। তবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুইজারল্যান্ড এখন আর আগের মতো আকর্ষণীয় গন্তব্য নয়। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থ পাচারের নতুন গন্তব্য তৈরি হয়েছে।


সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশিদের জমা সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁয় পৌঁছেছিল। এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে কমে ২০২৩ সালে তা ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁয় নেমে আসে। ২০২৪ সালে তা আবার লাফিয়ে বেড়ে ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ফ্রাঁ হয় এবং ২০২৫ সালে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ ফ্রাঁয় দাঁড়ায়।


উল্লেখ্য, সুইস ব্যাংকের তথ্যে সোনা, শিল্পকর্মসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ এবং অন্য দেশের নামে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থ অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাদেশ এখনও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় চুক্তিতে যুক্ত হয়নি, ফলে ব্যক্তি পর্যায়ের তথ্য পাওয়া কঠিন।


সম্পর্কিত খবর

;