স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাবু সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনগত রাত ১০টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সতীশ চন্দ্র রায় দিনাজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দুই দফায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিভিন্ন সময়ের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।
১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন দিনাজপুর-৭ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে আসন পুনর্বিন্যাসের পর দিনাজপুর-২ আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি ৪৯ হাজার ৪৪০ ভোট এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ৫৫ হাজার ৫৫১ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
দিনাজপুর-২ আসনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও বিভিন্ন নির্বাচনী নথি ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপির প্রার্থী লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে সতীশ চন্দ্র রায় ৭১ হাজার ২২৯ ভোট পান।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর সতীশ চন্দ্র রায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। তিনি প্রথমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
প্রকাশিত রাজনৈতিক জীবনী ও সংবাদ প্রতিবেদনে তাকে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। দিনাজপুরের বিরলসহ নিজ নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল দৃশ্যমান।
তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে দিনাজপুর-২ আসনের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে তৎকালীন দিনাজপুর-৭ আসন থেকে বিজয়ের পর ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে তিনি দিনাজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয় পান। এরপর ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক বয়সের ভারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে তাকে বয়সের কারণে আগের মতো সক্রিয় না থাকলেও নিজ এলাকায় মানুষের খোঁজখবর রাখা একজন প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
সতীশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুতে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান হলো। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তার শেষকৃত্যের সময়সূচি ও স্থান সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে জানানো হবে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ফেসবুকে সুইসাইড নোট দেখে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও জাতীয় পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেছেন শিবিরের কেন্দ্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় পার্টির মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৮টা ২৫ ...
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ (মার্কসবাদী) বলেছে, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি সরকারও বড় ঋণখেলাপীদের শাস্তি না দিয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পুরস্কৃত করছে।সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামে ...
ডেস্ক রিপোর্ট: অনৈতিক ও সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের লালবাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আজমকে বহিষ্কার করা হয়েছে।আজ ৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার ঢাকা মহানগর দক ...
সব মন্তব্য
No Comments