তথ্য উপদেষ্টা

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দিতেই হবে, সরকারের কিছু করার নেই

প্রকাশ : 15 Sep 2026
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দিতেই হবে, সরকারের কিছু করার নেই

স্টাফ রিপোর্টার: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলার রায় ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ওই কর পরিশোধ করতে হবে। এটা আদালতে রয়েছে, হাইকোর্টে রায় হয়েছে, তাদের ওই কর দিতে হবে। তারা নিজেরাই বাদী হয়ে এই কর দিতে চাননি। সরকারের এখানে আসলে কিছু করার নেই।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।


ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মামলায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ কিংবা বিরাগের প্রশ্ন নেই। মামলা তার গতিতে চলবে। তারা হয়তো আপিল বিভাগে যাবেন, যদি সাসটেইন করতে না পারেন তাহলে তাদের দিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, এটা নিয়ে একটু মিসপারসেপশন ছিল। কর মওকুফের রায় কী হয়েছিল, কেন তখন কার্যকর হয়নি সেটা এখন অনেকের সামনে এসেছে। ইন্টেরিমের সময় ছিল, এখন তাদের দিতে বলা হয়েছে। যেহেতু বিচার বিভাগের ব্যাপারে সরকার বিশ্বাস করে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে।


প্রসঙ্গত, গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির সূত্রপাত প্রায় এক দশক আগে। এনবিআরের দাবি, ২০১২-১৩ থেকে পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের আয়কর বাবদ এই টাকা পাওনা। এর আগে ২০০৪ সালে গ্রামীণ কল্যাণ, ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমকে ৫৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়।


এনবিআরের কর দাবির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি রিট করে। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এনবিআরের আদেশ বাতিল করে রায় দেন। পরে এনবিআর আপিল করলে পুনঃশুনানির নির্দেশ হয় এবং ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রিট খারিজ হয়। এরপর বিষয়টি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চে পাঠানো হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল খারিজ করে গ্রামীণ কল্যাণকে তিন অর্থবছরের জন্য ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এই রায় আপাতত বহাল রেখেছেন।


সম্পর্কিত খবর

;