হবু স্ত্রীকে অনৈতিক সহায়তা: এনসিপি নেতাকে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া

প্রকাশ : 12 Jun 2026
হবু স্ত্রীকে অনৈতিক সহায়তা: এনসিপি নেতাকে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের গালাগাল ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. আশরাফ শেখের বিরুদ্ধে। পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আশরাফ শেখ তার হবু স্ত্রীকে পরীক্ষায় সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। এতে উষ্মা প্রকাশ করে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে


বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষকদের কক্ষে অবস্থানরত আশরাফ শেখকে নিরাপদে সরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। 

প্রত্যক্ষদর্শী, অভিভাবক ও কয়েকজন পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগেই আশরাফ শেখ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। ওই কেন্দ্রে তার হবু স্ত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বেও বিভিন্ন পরীক্ষায় কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ ব্যবহারিক পরীক্ষার দিনও একই ধরনের আচরণের অভিযোগ ওঠে।


পরীক্ষা চলাকালে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, আশরাফ শেখ নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে গালাগাল ও ধাক্কাধাক্কিতে গড়ায়।


এ ঘটনার প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষোভ শুরু করে। ক্রমেই উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আশরাফ শেখকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং তাকে ধাওয়া দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি দৌড়ে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন।

এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তসহ অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।


ঘটনা সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আশরাফ শেখের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কেন্দ্রজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে আমি ইটের আঘাতে আহত হই। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।” তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আশরাফ শেখের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোনে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।


ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষকদের কক্ষে অবস্থানরত আশরাফ শেখকে নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন

সম্পর্কিত খবর

;