আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ইরানের বন্দর আব্বাসে অবস্থিত একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে আঘাত হানার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চারটি ইরানি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ওই নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, যা মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, এই পদক্ষেপ ছিল “পরিমিত, সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে”। ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা এখনো বহাল আছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করছে।
অন্যদিকে ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা সামরিক সূত্রের বরাতে জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজের দিকে গুলি ছোড়ে, যাতে সেটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এরপরই মার্কিন বাহিনী বন্দর আব্বাসের আশপাশের খোলা জায়গায় হামলা চালায়। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে ইরানি সূত্র দাবি করেছে।
এর আগে সোমবারও মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালায়। সেবার হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতার অভিযোগে ইরানি নৌযান এবং বন্দর আব্বাসে অবস্থিত একটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
এই নতুন সংঘাতের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। তেহরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুট বন্ধ করে রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সময় শর্ত দিয়েছিলেন, ইরানকে “সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে” হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। কিন্তু সাত সপ্তাহ পরও প্রণালি খোলেনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেন, “প্রণালি খুলতেই হবে, একভাবে না হলে অন্যভাবে”।
মার্কিন হামলার খবরে তেলের বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বুধবার দাম ৫ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়ার পর নতুন হামলার খবরে বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৩৮ ডলারে উঠেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “অশুভ শক্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না”। ইরানি বার্তা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, তারা নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ‘শত্রুপক্ষের’ একটি স্টিলথ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছিল তা উল্লেখ করেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি না হলে “সামরিকভাবে কাজ শেষ করতে হবে”।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত ২২ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বার্নহামই এখন দ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর জন্মভূমি ও শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারের দার আল-জিকর ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরে হুইতেং জুতা কারখানায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। চীনের ‘জুতা রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত জিনজিয় ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ‘কিল লিস্টে’ তিনি এক নম্বরে আছেন এবং যেকোনো সময় প্রাণ হারাতে পারেন। ন্যাটো সম্মেলনে তুরস্কের আঙ্কারায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট ...
সব মন্তব্য
No Comments