ডেস্ক রিপোর্ট: বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের মাত্র দুইদিন আগে আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তির শর্তগুলো বাংলাদেশের কৃষিখাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের আহবায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু ও সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস এক বিবৃতিতে বলেন- ' গত ৯ ফেব্রুয়ারি অবিশ্বাস্য তড়িঘড়ি এবং গোপনীয়ভাবে সম্পাদিত আমেরিকা-বাংলাদেশ পারস্পারিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়া হয়েছে। বিশেষত কৃষিখাত ধ্বংসের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই চুক্তির শর্তানুযায়ী আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি করতে বাধ্য থাকবে। বাংলাদেশকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ টন গম এবং অন্তত ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ লাখ টন সয়া ও সয়াজাত পণ্য এবং তুলা। গম, তুলা, সয়াবিন সবকিছুই বর্তমানে অন্য দেশ থেকে আমদানি মূল্যের কয়েকগুণ বেশি দামে কিনতে হবে। এছাড়াও গরুর মাংস, দুধ জাতীয় বিভিন্ন পণ্য (পনির, দই, ঘি ইত্যাদি), হাঁস-মুরগী-ভেড়া ও পোল্ট্রিজাত বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে বাধ্য থাকবে। এভাবে আমদানির ফলে দেশের বিকাশমান পোল্ট্রি, ডেয়ারি শিল্প প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। বেশি দামে খাদ্য পণ্য আমদানির ফলে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়বে। বিনাশুল্কে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪,৫০০ পণ্য আমদানি করতে হবে যার বেশিরভাগই কৃষিপণ্য। এর ফলে কৃষক, খামারী, ক্রেতা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী বাংলাদেশ কৃষিখাতে কোন ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং যেসব খাতে ভর্তুকি দেয় সেগুলো আমেরিকার কাছে প্রকাশ করতে হবে। অথচ আমেরিকা নিজদেশে কৃষিখাতে ব্যাপক ভর্তুকি দেয়। তাদের পণ্য রপ্তানির জন্য আমাদের মত দেশগুলোতে কৃষি খাতে ভর্তুকি তুলে দেয়ার শর্তারোপ করে।
চুক্তিতে জিএমও (জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজম) খাদ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জিএমও খাদ্য মানুষ, পরিবেশ, অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আরও ভয়ংকর বিষয় এধরনের পণ্যের মোড়কে এটা যে জিএমও তা উল্লেখ করা যাবে না।
কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোন পুণঃ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। আমেরিকার বিভিন্ন মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন মেনে নিতে হবে।
চুক্তির এসকল শর্ত স্পষ্টত দেশের কৃষিখাতের জন্য অশনিসংকেত। এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্বাস্থ্যঝুকি বাড়বে। ফলে অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে এই দেশবিরোধী চুক্তি করলেও নির্বাচিত বিএনপি সরকার তা বাতিল বা পর্যালোচনার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। এ পরিস্থিতিতে আমরা দেশের কৃষক, খামারী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, গবেষক, দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে কৃষিখাত ধ্বংসকারী এই চুক্তি বাতিলের জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির আহবান জানাই।'
ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ব পরিমণ্ডলে এককেন্দ্রিক আধিপত্য ও যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সকল রাষ্ট্রের সমঅধিকার, মর্যাদা ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সময় এসেছে বলে মনে করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বিশ ...
ডেস্ক রিপোর্ট: সরকারি চাকরিতে অযৌক্তিকভাবে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক রাশেদ শাহরিয়ার এই দাবি জানান। ...
স্টাফ রিপোর্টার: প্রতারণার মামলায় জামিন পেয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিদিশা সিদ্দিক। তিনি প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ফেসবুকে সুইসাইড নোট দেখে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও জাতীয় পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেছেন শিবিরের কেন্দ্ ...
সব মন্তব্য
No Comments