স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদে বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি বক্তব্য হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত অধিবেশনে দুই পক্ষের সংসদ সদস্যরা একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন এবং একাধিক ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, বিরোধী মত দমনের জন্য মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে মানুষকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, দেশে আবারও মত দমনের সংস্কৃতি ফিরে এসেছে এবং ভিন্নমত প্রকাশে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এর জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব হাসান বলেন, সরকারের সমালোচনা বা কার্টুন করায় কোনো বাধা নেই, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন প্রচার দুঃখজনক। তিনি দাবি করেন, বিরোধী শিবিরের কিছু নেতা সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের প্রশাসনিক সুবিধা হারানোর কারণেই বিরোধী পক্ষ এখন অস্থিরতা প্রকাশ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্য সঠিক নয়। সরকারি হিসাবে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যা প্রায় ১৪০০ জন।
অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অতীতের মতোই এখনো মামলা, হয়রানি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি চলমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবারও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও চাপ প্রয়োগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে একক কৃতিত্ব দাবি করার প্রবণতা ঠিক নয়। তার মতে, আন্দোলন কোনো একক পক্ষের অর্জন নয়।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা সংসদে বলেন, জাতীয় সংকটে সহযোগিতার সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি রয়েছে। তারা পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আস্থার সংকট স্পষ্ট। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নির্যাতনের কারণে এই অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা ও সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে খেলাধুলার মাধ্যমে শেখা, পুষ্টিকর খাবার ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ তার এলাকার রাস্তা, হাসপাতাল ও অবকাঠামো উন্নয়নের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন এবং ধর্মীয় শিক্ষার উন্নয়ন ও কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সব মিলিয়ে সংসদ অধিবেশনে দিনভর সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময়, পারস্পরিক অভিযোগ এবং রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।তিনি বলেন, ‘দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকারের পক্ষে সফল হওয়া স ...
স্টাফ রিপোর্টার: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) ও বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতির সভাপতি জননেতা দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে হাওরের কৃষকদের দুইটা দাবি মানা হলেও দায়ী ...
স্টাফ রিপোর্টার: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৫ জন সদ্য প্রবর্তিত ‘আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’ পুরস্কারে ভ ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তিকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র ...
সব মন্তব্য
No Comments