রাহাদ সুমন, বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের মুলাদী উপজেলায় স্কুলকক্ষ দখল করে দুই বছর ধরে বসবাসের প্রতিবাদ করায় এক বৃদ্ধাসহ নিরীহ এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের ৩০ নং চরমালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার বেপারী এবং কুয়েত প্রবাসী সানোয়ার বেপারীর বৃদ্ধা মা মমতাজ বেগম ৮২ অভিযোগ করে বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন বিগত দুই বছর ধরে স্কুল ভবনের একটি কক্ষ দখল করে বাসা-বাড়ির মতো খাট পেতে বসবাস করে আসছিলেন। সাবিনা ইয়াসমিন চরমালিয়া গ্রামের আব্দুর রব হাওলাদারের মেয়ে।
বৃদ্ধা মমতাজ বেগম বলেন, তারা বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য। এলাকাবাসী একাধিকবার শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে স্কুলকক্ষে বসবাস না করার অনুরোধ করলেও তিনি খামখেয়ালিভাবে তা উপেক্ষা করেন এবং কক্ষ ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে জানানোর পর ক্ষিপ্ত হয়ে সাবিনা ইয়াসমিন হয়রানির উদ্দেশ্যে মুলাদী থানায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই দুই জিডিতে খুন-জখমের হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
সোমবার ২ জুন দুপুরে জানা গেছে, শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের দায়ের করা এক অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনোয়ার বেপারী, তার ভাই সাইদুল বেপারী, তাদের বৃদ্ধা মা মমতাজ বেগম ও প্রতিবেশী জাকির হোসেন সরদারকে। অপর জিডিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে দেলোয়ার বেপারী, তার স্ত্রী আইরিন বেগম, ছেলে লিওন বেপারী ও মেয়ে রিয়া মনিকে।
সূত্রমতে, একই অভিযোগে শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন গত ১৭ ও ২১ মে দায়ের করা জিডি দুটি মুলাদী থানার এসআই মো. আবু সালেহ তদন্তপূর্বক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুমতি চেয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করেছেন।
স্কুলের জমিদাতা বৃদ্ধা মমতাজ বেগম বলেন, আমরা স্কুলের জন্য জমি দিয়ে কি ভুল করেছি? আজ সেই জমির কারণেই আমাদের পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, হয়রানির উদ্দেশ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের পরই শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন দখল করে রাখা স্কুলকক্ষ থেকে তার আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনোয়ার বেপারী, সাইদুল বেপারী ও জাকির হোসেন সরদার বলেন, আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করছি। বিনা কারণে শুধুমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্যে শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। সঠিক তদন্ত করলেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তারা আরও বলেন, শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন হুমকি দিয়ে বলেছেন যেকোনো মূল্যে থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে আমাদের জেল-হাজতে পাঠাবেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্কুলে বসবাস ও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে জরুরি মিটিংয়ে আছেন দাবি করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে শিক্ষিকার অভিযোগের সঠিক তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ মতিউর রহমান মোল্লা (৫০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে কাঠালিয়া থানা ...
মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা: স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই পানিসম্পদ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেবহাটা উপজেলা পানি কমিটির নিয়মিত ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার ৮ সেপ ...
মহাসিন মিঞা লিটন , বরিশাল অফিস: বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ধামুরা-শোলক ব্রিজের অ্যাপ্রোচ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।আজ ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ধামুরা ব ...
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও মোড়কজাত খাদ্যে সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংবলিত লেবেল ব্যবহারের দাবিতে নাটোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে লিখিত চিঠি দিয়েছে কসমস (KASMAS)।রোববার (১৬ আ ...
সব মন্তব্য
No Comments