আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধ অবসানে পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। এর জবাবে শুক্রবার ৫ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, এই মুহূর্তে তিনি এমন বৈঠকের কোনো প্রয়োজন বা অর্থ দেখছেন না।
জেলেনস্কি ওই চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ওপর নির্ভর করে বসে থাকা ভুল হবে। তিনি যুক্তি দেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। তাই শুধু ইউক্রেন ও রাশিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে। তিনি তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ দেশে, যেমন সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কে বৈঠকের প্রস্তাব দেন এবং আলোচনার সময় পূর্ণ যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দেন।
তবে পুতিন এই চিঠিকে ‘অমার্জিত’ ও ‘অভদ্র’ বলে অভিহিত করেন এবং নাম উল্লেখ না করে জেলেনস্কিকে ‘চিঠির লেখক’ হিসেবে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় পক্ষের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া। পুতিনের মতে, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন শুধু নিজেদের বাহিনী পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। তাই তিন বা ছয় মাসের অস্থায়ী চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দরকার।
মস্কোর অবস্থান হলো, বিশেষজ্ঞরা আগে সমাধানের খসড়া তৈরি করুক, তারপরই শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হতে পারে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক সম্ভব নয়। রাশিয়ার প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কিও বলেছেন, চুক্তি সইয়ের উপযোগী অবস্থা প্রস্তুত না হলে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অর্থহীন হবে।
এর আগে পুতিন জেলেনস্কিকে মস্কোতে আলোচনার জন্য আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা ইউক্রেন প্রত্যাখ্যান করে। তবে পুতিন বলেছেন, তিনি তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে রাজি আছেন, কিন্তু সেটা তখনই যখন স্বাক্ষরের জন্য কোনো চুক্তি প্রস্তুত থাকবে। এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এও বলেন, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা তিনি কখনোই বাতিল করেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুরোধ করলে তিনি জেলেনস্কিকে মস্কোয় স্বাগত জানাতে পারেন, কিন্তু শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে মস্কো সামরিক উপায়েই নিজের লক্ষ্য অর্জন করবে।
জেলেনস্কির প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় ইউক্রেন হতাশা প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, এর মাধ্যমে পুতিন ‘ব্যর্থ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার’ সুযোগ হারিয়েছেন। রাশিয়ার যুদ্ধবিষয়ক ব্লগাররা দাবি করেছেন, জেলেনস্কির চিঠি যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা নয়, বরং রাশিয়ার ভেতরে অসন্তোষ ছড়ানোর ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা’।
এই প্রত্যাখ্যানের ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে কূটনৈতিক অগ্রগতি আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ল। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপের যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তা ভেস্তে গেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানে এক রাতের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এ ঘটনায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। পরেরটি ছিল ৪ দশমি ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ দেশটির নতুন সরকার গঠনের জন্য সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান নৌ-অবরোধের পর এবার দেশটির স্থল সীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে পরমাণু বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ২ ক ...
সব মন্তব্য
No Comments