আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের দুই প্রধান শহর খামিস মুশাইত ও আবহায় সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। তবে কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া, রয়টার্স ও আল-জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি জেনারেল ডিরেক্টরেট অব সিভিল ডিফেন্স বুধবার ও বৃহস্পতিবার একাধিকবার ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মে সতর্কবার্তা জারি করে। বার্তায় খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়। পরবর্তীতে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া বিবৃতিতে সিভিল ডিফেন্স জানায়, "খামিস মুশাইত ও আবহা গভর্নরেটে বিপদ কেটে গেছে।" একই সঙ্গে জনসাধারণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, অপ্রয়োজনীয় জমায়েত এবং ঘটনাস্থলে ছবি ও ভিডিও করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী গত কয়েকদিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবারের হামলায় চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত এবং তেল স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলেও জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এই সতর্কবার্তার পেছনে প্রতিবেশী ইয়েমেনে যুদ্ধের হঠাৎ তীব্রতা বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হুথিরা হোদেইদা ও তাইজ প্রদেশে বড় আকারের আক্রমণ শুরু করে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এই প্রণালি সৌদি তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জবাবে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি বাহিনী ১২ ঘণ্টায় ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে আল-জাওফ, মারিব, তাইজ, হোদেইদা, সাদা ও আল-বাইদা প্রদেশে। বৃহস্পতিবার আরও ৪০টি হামলার দাবি করেছে হুথি-সমর্থিত সংবাদ সংস্থা সাবা। হুথিদের অভিযোগ, এসব বিমান খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটি এবং তাইফের কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে। হুথিরা এর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা আল-জাওফ প্রদেশের কৌশলগত আল-ইয়াতমা এলাকা এবং তাইজ, আল-বাইদা ও মারিবে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাইজ, আল-জাওফ ও আল-বাইদা প্রদেশে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, ৩ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৭৬ জন নিহত হয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসরে নামে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও গত জুলাইয়ে সরকারি বাহিনীর সানা বিমানবন্দরে হামলার পর সংঘাত আবার শুরু হয়।
এই উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, হুথিদের হামলা সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানে এক রাতের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এ ঘটনায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। পরেরটি ছিল ৪ দশমি ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ দেশটির নতুন সরকার গঠনের জন্য সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান নৌ-অবরোধের পর এবার দেশটির স্থল সীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে পরমাণু বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ২ ক ...
সব মন্তব্য
No Comments