ডিআর কঙ্গোতে স্কুলে আগুনে ২৪ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, পুড়ে গেছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি

প্রকাশ : 11 Sep 2026
ডিআর কঙ্গোতে স্কুলে আগুনে ২৪ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, পুড়ে গেছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ২৯ জন। শহরটি বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি, রয়টার্স এবং টিআরটি ওয়ার্ল্ডের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাউথ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর বাগিরা জেলার কাদুতু কমিউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, একটি বাড়ি থেকে আগুনের শুরু হয়ে দ্রুত পাশের দুটি স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল দুটি হলো উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফুরাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।


বিদ্রোহী নিয়োগপ্রাপ্ত সাউথ কিভু প্রদেশের ভাইস গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বোয়েঙ্গে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে এবং ৫ জন ছেলে শিক্ষার্থী রয়েছে। এএফসি/এম২৩ এর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, এটি প্রাথমিক মৃত্যুর সংখ্যা এবং ২৯ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে ২১ জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।


স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ক্লাস চলাকালীন আগুন লাগায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরু দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়ি এবং পদদলিত হয়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। কিছু শিক্ষার্থী জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেলের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে তখনো ধোঁয়া উঠছিল।


এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০০টি কাঠের তৈরি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে বলে বিদ্রোহী প্রশাসন জানিয়েছে। যদিও স্থানীয় এক নেতা ৫০০ এর বেশি ঘর পুড়ে যাওয়ার দাবি করেছেন। ঘনবসতিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাটিতে কাঠের ঘর বেশি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি এবং তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।


বুকাভু শহরটি গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরটিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাবে প্রায়ই আগুনের ঘটনা ঘটে। এর আগে অক্টোবর মাসে বুকাভুতে আরেকটি অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।


এদিকে রাজধানী কিনশাসার সরকার এক বিবৃতিতে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দেশটির জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোতে দ্রুত পড়াশোনা শুরুর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিবিসি জানিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত খবর

;