বিশেষ প্রতিনিধি, ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এই রায়ে নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশই বহাল রাখা হয়েছে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার এই উদ্যোগ বাতিল হওয়াকে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এই বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী কোনো শিশুর মা-বাবার অন্তত একজন যদি মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বৈধ বাসিন্দা না হন, তবে ওই শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাবে না। মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশ মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই রায়ের খসড়া প্রস্তুত করেন। রায়ে তিনি মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত গৃহযুদ্ধ শেষে দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্ত হওয়া দাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে প্রণীত হয়েছিল। রায়ে বলা হয়, মা-বাবা সাময়িক বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও সেখানে জন্ম নেওয়া তাদের সন্তান সংবিধান অনুযায়ী নিশ্চিতভাবেই ‘জন্মসূত্রে নাগরিক’।
প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ‘নাগরিকত্ব হলো তখনো এবং এখনো আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে অবাধে অংশগ্রহণের অধিকার পাওয়ার চাবিকাঠি। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই ভূখণ্ডে মুক্তভাবে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য সেই প্রতিশ্রুতি প্রসারিত করেছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছি।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবেই তার ক্ষমতার আইনি সীমা পরীক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তার নেওয়া কোনো বড় সিদ্ধান্ত আদালতের বাধার মুখে পড়ল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তার জারি করা ব্যাপকভিত্তিক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটিও বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট।
এদিকে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে হারলেও একই দিন অন্য একটি রায়ে স্বস্তি পেয়েছেন ট্রাম্প। স্কুল ও কলেজের মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রণয়ন করা আইনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের করা দুটি মামলার শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন। ওই দুই অঙ্গরাজ্যের আইনে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া দলে জন্মকালীন নিবন্ধিত লিঙ্গ অনুযায়ী অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল। আদালত ৬-৩ ভোটে রায় দেন যে এই আইনগুলো চতুর্দশ সংশোধনীর ‘সমান সুরক্ষা ধারা’ লঙ্ঘন করে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল হলে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ নবজাতকের আইনি মর্যাদা ঝুঁকিতে পড়ত।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত ২২ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বার্নহামই এখন দ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর জন্মভূমি ও শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারের দার আল-জিকর ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরে হুইতেং জুতা কারখানায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। চীনের ‘জুতা রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত জিনজিয় ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ‘কিল লিস্টে’ তিনি এক নম্বরে আছেন এবং যেকোনো সময় প্রাণ হারাতে পারেন। ন্যাটো সম্মেলনে তুরস্কের আঙ্কারায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট ...
সব মন্তব্য
No Comments