চূড়ান্ত সমঝোতার ভাষা পছন্দ না হলে আবার বোমা হামলা চালাব: ট্রাম্প

প্রকাশ : 18 Jun 2026
চূড়ান্ত সমঝোতার ভাষা পছন্দ না হলে আবার বোমা হামলা চালাব: ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত ভাষা পছন্দ না হলে আবারও বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটা একটা সমঝোতা স্মারক। যদি আমি এটা পছন্দ না করি, আমরা আবার তাদের দিকে গুলি চালাতে, তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলতে ফিরে যাব। তারা যদি ভালো আচরণ না করে, ঠিক মাথার মাঝখানে বোমা ফেলতে ফিরে যাব, ঠিক আছে?” 


ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে তা এখনো চূড়ান্ত নয়। এতে ইরানের জন্য তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। তবে তিনি পরে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান। তিনি সমঝোতাকে “খুবই শক্তিশালী চুক্তি” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “কেউ জানে না এটা কী, কিন্তু এটা খুবই শক্তিশালী”। 


চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে পুনরায় অঙ্গীকার করবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকবে। এর বিনিময়ে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিল গঠন এবং ধাপে ধাপে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ তহবিলে কোনো অর্থ দেবে না। 


ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুললে এবং চুক্তি না মানলে বোমা হামলা আরও তীব্র হবে। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “যদি তারা রাজি না হয়, বোমা হামলা শুরু হবে, এবং তা আগের চেয়ে অনেক উচ্চ মাত্রা ও তীব্রতায় হবে”। এর আগে মে মাসেও তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি না খুললে বোমা হামলা শুরু হবে। 


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দুই মাসের যুদ্ধ চলে। ৮ এপ্রিল থেকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হয়। রোববার ডিজিটালি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়, যা শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা। 


তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইসরায়েল লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে না সরলে ইরান চূড়ান্ত চুক্তি করবে না। তেহরান আরও বলছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘ইরানের মাটির মতোই পবিত্র’ এবং তা কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর করা হবে না। 


ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তির শর্ত নিয়ে ‘পুরোপুরি বিপর্যয়’ দেখা দিলে হোয়াইট হাউস চুক্তি বাতিলও করতে পারে। “যদি ইরানিরা পারমাণবিক অস্ত্র ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ক্ষেত্রে তাদের আচরণ বদলায়, আমরা তাদের বিশ্ব অর্থনীতিতে আনব। না করলে, আমরা করব না”। 


ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চুক্তিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ বলে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শাকারচি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে অপমানের ক্ষতিপূরণ দিতে আবার কোনো মূর্খতা করলে আরও চূর্ণ ও কঠোর আঘাত পাবে”। 


রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক মজুত অক্ষত থাকছে, সরকারও বহাল থাকছে এবং লেবাননের ভবিষ্যৎ অমীমাংসিত। আটলান্টিক কাউন্সিলের সাবেক কর্মকর্তা ভিক্টোরিয়া টেইলর বলেন, “এই চুক্তি আরও সংঘাত এড়ানোর সেরা ফল হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রথমেই কূটনীতি বেছে নিলে যা পাওয়া যেত, তার চেয়ে ভালো নয়”। 


ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে স্থির ছিল, কারণ বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালি খুলবে কি না তা দেখার অপেক্ষায়। তেলের দাম এর আগে ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছিল। 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা শুক্রবার জেনেভায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, তিনি চুক্তির চূড়ান্ত ভাষা পছন্দ না করলে এবং ইরান ‘ভালো আচরণ’ না করলে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলায় ফিরে যাবে। 


সম্পর্কিত খবর

;