রংপুরে ২১ সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তায় পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ, বিভাগীয় সভায় সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : 17 Sep 2026
রংপুরে ২১ সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তায় পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ, বিভাগীয় সভায় সিদ্ধান্ত

মোঃ মহশীন আলী, রংপুর অফিস: সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়নমূলক কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধ দমনে ২১টি সরকারি সংস্থার সাথে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।


আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং সকালে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম, এনডিসি। এতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, “জনসাধারণের নিরাপত্তা, সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক সমন্বয় ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমেই কেবল কাঙ্ক্ষিত জনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।”


সভায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ, বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক এবং সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলার সার্বিক বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি দপ্তরগুলোর নির্দিষ্ট ক্ষেত্র অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।


অবকাঠামো ও সেবা খাত: গণপূর্ত, এলজিইডি, স্বাস্থ্য প্রকৌশল ও সড়ক বিভাগের জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী চুরি ঠেকাতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হবে।


বিদ্যুৎ ও পানি সম্পদ: নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, বাঁধের ক্ষতিসাধন এবং বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ও সরঞ্জাম চুরি প্রতিরোধে সমন্বিত অভিযান চলবে।


কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: সার-বীজের অবৈধ মজুত, পাচার, কৃত্রিম সংকট তৈরি, ভেজাল কৃষি উপকরণ বিক্রি এবং সরকারি চাল-গম ওজনে কারচুপি রোধে বিএডিসি, কৃষি বিপণন ও খাদ্য বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে পুলিশ।


জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওষুধ চুরি, নকল ওষুধ বিক্রি ও অপব্যবহার রোধে ঔষধ প্রশাসন এবং দ্রুত মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) নিশ্চিতে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করা হবে।


পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ: নদী দূষণ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, বনভূমি দখল, গাছ পাচার এবং অবৈধ মাছ আহরণ প্রতিরোধে মৎস্য, পরিবেশ ও বন বিভাগকে আইনি সহায়তা দেবে পুলিশ।


ভোক্তা অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা আত্মসাৎ প্রতিরোধ এবং বাজারে ভেজাল পণ্য ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে অভিযান পরিচালনা করা হবে।


ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রেঞ্জের আওতাধীন পুলিশ ইউনিটগুলোকে সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং অপরাধের তথ্য পাওয়া মাত্রই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।


সম্পর্কিত খবর

;