তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি

৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে: ইসি

প্রকাশ : 17 Sep 2026
৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে: ইসি

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ৬ জুনের আগেই স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।


আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।


নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আগামী বছরের ৬ জুনের আগে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। তবে সভায় ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে পারেনি নির্বাচন কমিশনার।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণ অংশ নেন। এছাড়া সভায় ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সভা শেষে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে আজকের সভায় সবাই সম্মত হয়েছেন যে, আমাদেরকে এই নির্বাচনটা এইচএসসি পরীক্ষার আগে অর্থাৎ ৬ জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে।’


তিনি বলেন, সভায় কতগুলো বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষ করে শিক্ষার ব্যাপারে। বন্যার কারণে মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাব পড়েছে, সেটা এখন কাটিয়ে উঠছে। পাশাপাশি আমাদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে, পরীক্ষাগুলো যাতে ব্যাহত না হয়।


তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রশিক্ষণ সমন্বয় এবং ডিউটির জন্য একজন শিক্ষকের অন্ততপক্ষে এক সপ্তাহের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা যেন তাদের মূল্যায়নের কাজটা করতে পারেন। প্রাক প্রস্তুতির কাজগুলো করতে পারেন। পরীক্ষা যেন ব্যাহত না হয়। আমরা বলেছি, এগুলো অবশ্যই আমলে নিতে হবে এবং এগুলো আমরা এড্রেস করব।


ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলবে। নির্বাচন কমিশন এর আগে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, এর পর যথাক্রমে ১৩ ডিসেম্বর, ৩০ ডিসেম্বর, ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল এবং ২৭ মে বাকি ধাপগুলোর ভোট হবে।


দেশের ৪,৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪,২৭২টিতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী, কোনো পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ‘আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য।’ তিনি জানান, বাজেট প্ল্যানিংয়ের কাজও শিগগিরই সম্পন্ন করা হবে। সেগুলো সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।


সভায় জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সানাউল্লাহ বলেন, সভায় জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনী থাকবে। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


সম্পর্কিত খবর

;