জনস্বাস্থ্যের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকার: সিপিবি

প্রকাশ : 12 May 2026
জনস্বাস্থ্যের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকার: সিপিবি

স্টাফ রিপোর্টার: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বাস্থ্যের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতৃবৃন্দ। তারা হামে চার শতাধিক শিশু মৃত্যুর অপরাধে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের বিচার ও শাস্তি দাবি করেছেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সমাবেশ থেকে সারাদেশে হাম মহামারীতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে আগামী ১৯ মে’র মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় অবস্থান ও ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এছাড়া অবিলম্বে সারাদেশে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিশ্চিত, স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থা দূর এবং শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, তথ্য বের হচ্ছে, স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিলেও তারা নাকি ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা রেখে গিয়েছিল স্বাস্থ্য খাতে। তাহলে টিকা কিনতে তো অসুবিধার কথা না। কিন্তু তা হলো না কেন? কারণ উনি (ড. ইউনূস) ব্যস্ত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ ফোন দিয়ে কিভাবে সরকারের থেকে আরো সুবিধা নেওয়া যায়। তিনি বেশি ব্যস্ত ছিলেন নিজের ট্যাক্স ফাঁকি মওকুফ, নিজের নামে অনিয়ম ও মামলা কিভাবে প্রত্যাহার করা যায়, তা নিয়ে। তিনি আরো বলেন, নূরজাহান নামে একজনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পত্রপত্রিকায় দেখলাম, তিনি নাকি তিনজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ইউনিসেফের টিকা কেনেননি। সাংবাদিকরা এর কারণ খুঁজে বের করেছে। এখন শোনা যাচ্ছে- ইউনিসেফের কাছ থেকে টিকা কিনলে নাকি কমিশন পাওয়া যেত না, তাই কেনেনি। আমি ধিক্কার জানাই এবং দাবি করি, এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী হামে ৪ শতাধিক শিশুর তথ্য দেওয়া হলেও বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। সন্তান হারিয়ে শোকাহত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারের সদস্যরা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য দায়ী সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও লাকী আক্তার। স্মারকলিপি পাঠ করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।

সম্পর্কিত খবর

;