করছাড়ের চটকদার ঘোষণা, বাজারে স্বস্তি শূন্য

প্রকাশ : 18 Jun 2026
করছাড়ের চটকদার ঘোষণা, বাজারে স্বস্তি শূন্য

আতিকুল ইসলাম টিটু:


বাজেট আসে, বাজেট যায়। সাধারণ মানুষের চোখ থাকে একটাই জায়গায়—চাল, ডাল, তেল, আলু আর পেঁয়াজের দাম কমলো কি না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের পর স্বভাবতই বড় বড় শিরোনামে প্রচার করা হলো, "৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে"। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্তকে মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য 'বিরাট স্বস্তি' হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু বাজারের থলি হাতে প্রতিদিন যে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হয়, তার বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন, “কাগজে-কলমে শুনলাম সরকার নাকি ৬০টা পণ্যের ট্যাক্স উঠায় দিছে। কিন্তু বাজারে তো চালের কেজিতে এক টাকাও কমলো না! উল্টো বাজেট পাস হওয়ার আগেই মোবাইলে রিচার্জ করতে গেলে আগের চেয়ে বেশি টাকা কেটে নিচ্ছে।” এই সাধারণ ক্রেতার হাহাকারই বলে দেয়, চটকদার ও বিভ্রান্তিকর ঘোষণা আদতে সাধারণ জনগণের সাথে এক প্রকার পরিহাস বা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো মৌলিক ৬০টি পণ্যের ওপর আগে যে ১ শতাংশ, ২ শতাংশ কিংবা ৫ শতাংশ উৎসে কর (Withholding Tax) ছিল, তা কমিয়ে অভিন্ন ০.৫ (শূন্য দশমিক পাঁচ) শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ কর এখনো বহাল আছে, শুধু হারটা সামান্য হ্রাস করা হয়েছে।


এখন প্রশ্ন হলো, এই নামমাত্র হ্রাস কি সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসছে? উত্তর হলো—একদমই না। চলুন হিসাবটা একটু সহজ করা যাক। ১০০ টাকার পণ্যে যদি উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়, তবে ব্যবসায়ীর মোট সাশ্রয় হয় মাত্র ১ টাকা ৫০ পয়সা। একজন সাধারণ ভোক্তা যখন বাজারে গিয়ে ৭০ টাকা কেজি দরে এক কেজি চাল বা ২০০ টাকা দরে এক লিটার তেল কেনেন, তখন এই ১ টাকা বা ৫০ পয়সার হিসাব খুচরা বাজারে কোনো প্রভাবই ফেলে না। আমাদের দেশের বাজার সংস্কৃতিতে ৫০ পয়সা বা ১ টাকা হিসাব করে খুচরা বিক্রেতারা কখনো পণ্যের দাম কমায় না। ফলে, এই কর ছাড়ের পুরো সুফলটাই সাধারণ মানুষের পকেট পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই পুঁজিপতি, ব্যবসায়ী, মিল মালিক, বড় আমদানিকারক ও আড়তদারদের পকেটে চলে যাচ্ছে।


আরেকটি বড় শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারে। বলা হচ্ছে জিরা, দারুচিনি, এলাচি ও লবঙ্গের মতো আমদানিনির্ভর পণ্যে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (Regulatory Duty) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে ডলারের ক্রমাগত উচ্চমূল্যের কারণে এই ৫ শতাংশ শুল্কছাড়ের সুবিধাটি আমদানির অন্যান্য খরচের ভেতরেই হারিয়ে গেছে। ফলে, খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তাকে এখনো সেই চড়া দামেই মসলা কিনতে হচ্ছে।


বাংলাদেশী বাজারের চিরন্তন সত্য হলো—সরকার যদি কোনো পণ্যে ১ টাকা কর বাড়ায়, ব্যবসায়ীরা মুহূর্তের মধ্যে দাম বাড়িয়ে দেয় ৫ টাকা। কিন্তু সরকার যদি কোনো খাতে কর বা শুল্ক কমায়, তবে তার সুফল সাধারণ মানুষ মাসের পর মাস অপেক্ষা করলেও পায় না। এই ৬০টি নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রেও ঠিক একই দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও বাজারে কোনো পণ্যের দাম এক পয়সাও কমেনি। ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, "এগুলো আগের বাড়তি কর দিয়ে কেনা পুরোনো স্টক।" কিন্তু নতুন পণ্য বাজারে এলেও যে দাম কমবে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই; কারণ বড় আমদানিকারকদের এই সিন্ডিকেট ভাঙার মতো কার্যকর পদক্ষেপ সরকারের নেই বললেই চলে। এই বাজেট কোন স্বাধীন দেশের আমজনতার অর্থনৈতিক মুক্তির দলিল নয়; এটি তৈরি হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নীতি-নির্দেশে, তাদের এদেশীয় দালালদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সাধারণ মানুষের পকেট কেটে বিশাল আমলাতান্ত্রিক বিলাসের মাশুল জোগাতে।


আজকের দিনে সাম্রাজ্যবাদ শুধু ভৌগোলিক দখলদারিত্বে সীমাবদ্ধ নয়, তা মূলত চলে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা বিশ্বব্যাংকের মতো সাম্রাজ্যবাদী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল এজেন্ডা থাকে নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্রের জাতীয় অর্থনীতিকে বহুজাতিক পুঁজির জন্য উন্মুক্ত করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাত সংকুচিত করা। এবারের বাজেটে তারই প্রতিফলন স্পষ্ট।


সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রথম নির্দেশই থাকে কৃষি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সাধারণ মানুষের রেশনে দেওয়া ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া। এর ফলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম যখন আকাশচুম্বী হয়, তখন কৃষকের উৎপাদন খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই বিশাল বোঝার তুলনায় এই ৬০টি পণ্যের 'এক পয়সা-দু পয়সার' কর ছাড়ের ঘোষণা আসলে এক ধরণের ক্রূর তামাশা।


সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার এদেশীয় দোসর বা দালাল হচ্ছে এদেশের আমলা-দালাল পুঁজিপতি শ্রেণি, বড় আমদানিকারক, ও ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেট। যখন কোনো পণ্যের কর সামান্য কমানো হয়, কোটি কোটি টাকার আমদানিতে এই ০.৫% বা ১% ছাড়ের পুরো সুবিধাটা কোটি কোটি টাকা হিসেবে জমা হয় এই সিন্ডিকেটের পকেটে। তারা আন্তর্জাতিক পুঁজির বাজার তৈরি করতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটে, অথচ নীতিনির্ধারকদের ম্যানেজ করে নিজেদের ট্যাক্স ছাড়ের ব্যবস্থা ঠিকই বহাল রাখে।


এই বাজেট মূলত দেশের মানুষের সামর্থ্য বিবেচনা করে তৈরি করা হয়নি, এটি তৈরি হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর বেঁধে দেওয়া প্রেসক্রিপশন এবং শর্ত পূরণ করার জন্য। সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলো যখন ঋণের শর্ত হিসেবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বা ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর নির্দেশ দেয়, তখন সরকার সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ কর ও ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দেয়। অথচ ভ্যাট ও ট্যাক্সের সেই তীব্র আগুন থেকে সাধারণ মানুষের চোখ সরাতে এই '৬০ পণ্যের ভুয়া কর প্রত্যাহার'-এর নাটক সাজানো হয়।


বাংলাদেশী বাজারের চিরন্তন সত্য হলো—সরকার যদি কোনো পণ্যে ১ টাকা কর বাড়ায়, ব্যবসায়ীরা মুহূর্তের মধ্যে দাম বাড়িয়ে দেয় ৫ টাকা। কিন্তু সরকার যদি কোনো খাতে কর বা শুল্ক কমায়, তবে তার সুফল সাধারণ মানুষ মাসের পর মাস অপেক্ষা করলেও পায় না। এই ৬০টি নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রেও ঠিক একই দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও বাজারে কোনো পণ্যের দাম এক পয়সাও কমেনি। কারণ এই দালাল সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষমতা বা রাজনৈতিক সদিচ্ছা কোনোটিই ঋণগ্রস্ত সরকারের নেই।


কিন্তু এবারের বাজেটের আসল শুভঙ্করের ফাঁকি ও ভয়াবহতা লুকিয়ে আছে এর অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত বিন্যাসে। ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই অতিকায় বাজেটের সিংহভাগ, অর্থাৎ ৬ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকাই চলে যাবে পরিচালন ব্যয়ে! আমলাতন্ত্রের বেতন-ভাতা, বিলাসী প্রটোকল আর বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের সুদ টানতেই যদি বাজেটের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ শেষ হয়ে যায়, তবে দেশের মানুষের উন্নয়ন হবে কীভাবে? জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ৩ লক্ষ কোটি টাকা। দুর্নীতির আসল মহোৎসবের আয়োজন রাখা হয়েছে এই উন্নয়ন ব্যয়ের ভেতরেই। এই ৩ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে আবার প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকাই এমন সব খাতে রাখা হয়েছে যার সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ হিসাব আমজনতার কাছে স্পষ্ট নয়, যা পরোক্ষভাবে জবাবদিহিতাহীন থোক বরাদ্দের মতোই কাজ করে। এর আগের অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সুনির্দিষ্ট থোক বরাদ্দ ছিল মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা, তার আগের অর্থবছরে ছিল ১১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক লাফে অনুৎপাদনশীল ও জবাবদিহিতাহীন এই বিশাল অর্থের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১৭ গুণ! এই অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন লুটপাটের আয়োজন ঢাকতেই কি তবে ৬০টি নিত্যপণ্যে ০.৫% কর কমানোর সস্তা নাটক সাজানো হয়েছে?


এই বিশাল বাজেটের খরচ জোগাতে সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে ৪২% রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। অথচ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, কোনোকালেই ২৭% এর বেশি রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হারের নজির নেই। যেখানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, সেখানে কোন জাদুবলে ৪২% প্রবৃদ্ধি হবে? উত্তরটা পরিষ্কার—এই অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর শর্ত মেনে সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাট, ট্যাক্স এবং নানামুখী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের চাবুক চালানো হচ্ছে। একদিকে যখন ৬০টি পণ্যে নামমাত্র কর ছাড়ের প্রচার চালানো হচ্ছে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও দৈনন্দিন খাতে কর ও শুল্ক ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।


আইএমএফ-এর সরাসরি নির্দেশ মেনে ফার্নেস অয়েল, ডিজেল ও এলপিজি গ্যাসের ওপর আমদানি শুল্ক এবং ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা তুলে নেওয়ায় সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুতের বিল আকাশচুম্বী হবে। মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের ব্যবহারের মোবাইল টকটাইম এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরও ৫% বাড়ানো হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় প্রহসন হলো, ১৯৩১ সালের ট্যাক্স আইনের দোহাই দিয়ে এই বর্ধিত কর বাজেট পাস হওয়ার এক মুহূর্ত আগে থেকেই জনগণের পকেট থেকে কাটা শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং এবং অনলাইন ফুড ডেলিভারি সেবার ওপর ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে। তীব্র দাবদাহের এই সময়ে মধ্যবিত্তের স্বস্তির পণ্য রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনারের ওপর ভ্যাট ও উৎপাদন কর বাড়ানো হয়েছে। দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্ল্যান্টগুলোর কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট ১% থেকে বাড়িয়ে ৫% করায় স্মার্টফোনের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।


এই দমবন্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ অবশ্য নীতিনির্ধারকদের অজানা নয়। সরকার যদি সত্যিই দেশের মানুষকে মূল্যস্ফীতির এই আগুন থেকে বাঁচাতে চায়, তবে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের দাসত্ব পরিহার করে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি খাতে প্রত্যক্ষ প্রণোদনা এবং চাল-ডাল-তেলের পাইকারি আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী আর্থ-সামাজিক অবস্থায় কোন সরকার কখনোই তা করবে না।


পরিশেষে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে—কার বাজেটে কে মাশুল চুকাবে? জনগণের টাকায় ৬ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার পরিচালন ব্যয়ের বিলাসিতা হবে, ১৭ গুণ অনিশ্চিত বরাদ্দ বাড়িয়ে লুটেরাদের পকেট ভারী করা হবে, আর বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ৪২% প্রবৃদ্ধির ট্যাক্সের চাবুক মারা হবে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পিঠে। নীতিনির্ধারকদের এই ফাঁকা আশ্বাস এবং কর কমানোর নামে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালদের সুবিধা দেওয়ার এই গণবিরোধী নীতি পরিহার না করলে, এই বাজেট কেবল সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার এক নিষ্ঠুর হাতিয়ার হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে।


সরকারের কাজ হওয়া উচিত ছিল সাধারণ মানুষের সরাসরি পকেটে স্বস্তি দেওয়া। সরকার যদি সত্যিই জনগণের কথা ভাবত, তবে উৎসে করের মতো ক্ষুদ্র অঙ্কের মারপ্যাঁচে না গিয়ে সরাসরি স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহ বাড়াতে পারত। কিন্তু তা না করে, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা এমন এক বিভ্রান্তিকর ঘোষণা দিলেন, যা কেবল কাগজে-কলমে বাহবা কুড়ানোর জন্য উপযুক্ত, কিন্তু বাস্তবতার বাজারে যার মূল্য শূন্য।


বাজেটের এই চটকদার পরিসংখ্যান দিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কিংবা খালি পকেটের হাহাকার ঢাকা দেওয়া যাবে না। নীতিনির্ধারকদের এই ফাঁকা আশ্বাস এবং কর কমানোর নামে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালদের সুবিধা দেওয়ার এই নীতি জনগণের সাথে এক ধরণের চাতুরতা। সরকার যদি সত্যি আন্তরিক হতো, তবে শুধুমাত্র নামমাত্র ট্যাক্স না কমিয়ে পাইকারি আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত কঠোর মনিটরিং এবং সিন্ডিকেট ভাঙার শক্ত দাওয়াই দিত। কিন্তু নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্রের পক্ষে তা কখনো সম্ভব না। তাই এই বাজেট কেবল ধনীদের আরও ধনী করার হাতিয়ার হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে, আর সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ চিরকাল বাজারের আগুনে পুড়তেই থাকবে।


-লেখক: একজন সমাজ কর্মী

সম্পর্কিত খবর

;