বয়স যখন কম ছিলো মানে, ছোট ছিলাম আরকি(!) তখন যে কোনো কিছু কিনতে গেলেই খুব ভালোভাবে উল্টে-পাল্টে দেখতাম। এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর দেখিনা। মনোযোগসহ অনেক কিছুর সাথে সময়ের সংকটও হয়তো থাকে তাই। কিন্তু বাস্তবতা হলো সবাই এখনো ছোট রাখতেই কিংবা ছোট করতেই ভালোবাসে—কেউ বড় হতে দিতে চায়না।
এইতো সেদিন বইমেলায় বই কিনতে গিয়ে দোকানির কাছে প্রিয় মানুষের বই চাইতেই বইটি দিলো হাতে। তারপর বললাম নিতে চাই, বয়সে আমার চেয়ে কম দুটি ছেলে-মেয়ে তাকিয়ে বলল, দাঁড়ান ফ্রেস কপি দিচ্ছি। আমি ব্যাগে দেয়া ফ্রেস কপি আর না উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে নিয়ে নিলাম। বাসায় এসে দেখি খুবই অবাক করা ঘটনা (জানিনা এরকম ঘটনার আর কেউ শিকার হয়েছেন কিনা!)—আমি যে কবির বই চেয়েছিলাম উপরে তার নাম ঠিকই রয়েছে, ফ্ল্যাপে তাঁর ছবিও রয়েছে, কিন্তু ভেতরে অন্য আরেকজনের প্রকাশনা।
এক ছাত্রনেতাকে সংগঠনের মুখপত্রের জন্য লেখা দেয়ার পর খুবই ছোট্ট একটু সংশোধনী ছিলো। বললাম ভাই এই সংশোধনীটুকু দিলে ভালো হয়। সে জানালো সংশোধনীটুকু সে যুক্ত করে নিবে। কিন্তু সেই সময় তার হয়তো হয়নি। প্রকাশনায় যেই লাউ সেই কদুর মতো সেই ভুলটি রয়েই গেলো।
কোনো এক বড় নেতা ভেবেছেন সারা জীবনতো আমাদের কথাই শুনে যাবে। আরে বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মগজ আর চিন্তাশীলতাও যে বৃদ্ধি পায় তা তো সেই নেতা থোড়াই কেয়ার করে! কোনো এক প্রগতিশীল নেতা হয়তো ভেবে থাকতে পারেন না হয় একটু ছুঁয়েই দিলাম নারীর শরীর, কী আর হবে! ওর মধ্যেতো দেবতাকে পূজা দেয়ার মনস্তত্ত্বই কাজ করে ও কি আর বুঝবে যে যৌন হয়রানির শিকার হলো—আর বুঝলেই বা কী ও আর কীই বা করবে?
আর ইদানিং দেখছি কথা সাহিত্যিকদের মধ্যেও কেউ-কেউ ইনি ওনাকে, উনি এনাকে, এ ওকে আর ও একে যে যাকে পারছে ছোট করে নানাধরনের বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। কে কাকে ছোট করে নিজে বড় হবে আত্ম-অহমিকার এরকম কুৎসিত প্রতিযোগিতারই যেন এক মহোৎসব চলছে!
এইযে পরিবার, সমাজ, দল, বাজার, কর্মস্থল আর রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি এই সর্বক্ষেত্রেই যে ছোট করে রাখার প্রবণতা—বনসাই বানানোর প্রবণতা এর শেষ কোথায়?
কোথায় একটু বড় হবো কোনো কিছু ছোটবেলার মতো উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে না দেখে সেই সময়টা অন্য কোনো কাজে লাগাবো—তা নয় উল্টো এখনও সেই আগের মতোই সবকিছু পরখ করে দেখতে হবে। এই বয়সে এসেও কোথাও একটু আস্থা রাখার জো নেই।
বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাই যেন প্রতিনিয়তই একটি বিশাল বৃক্ষের মহীরুহ হয়ে ওঠার যাবতীয় স্বপ্নকে প্রতিকূল পরিবেশ বা কৃত্রিম কৌশলে একটি টবের মধ্যে ছোট করে রাখা তথা বনসাই বানানোর সীমাবদ্ধতায় আক্রান্ত। ফলে দেশ-কাল-সমাজ ও সেই সঙ্গে আমরা সামনের দিকে আগানোর পরিবর্তে পিছু হটতেই বরং বাধ্য হচ্ছি ক্রমাগত। তাই সবকিছু দেখে-শুনে মনে হয় 'বামন ও বনসাইয়ের বাস্তবতায়’ এক অদ্ভুত সময়েই আমরা বেঁচে আছি হয়তোবা!
-লেখক:সামসুল আলম সজ্জন, সাবেক ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
তাহমিদা খানম: আমরা যে শ্রেণিকক্ষের সঙ্গে পরিচিত—সামনে একজন শিক্ষক, পেছনে সারিবদ্ধ ডেস্কে বসে থাকা শিক্ষার্থীরা, নির্দিষ্ট সময়সূচি, পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা—তা কি কেবল শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুবিধার্থে তৈরি ...
সামীনা জান্নাত:বাংলার প্রকৃতি চিরকালই ঋতুবদলের রঙে রঙিন। ষড়ঋতুর এই দেশে এক ঋতু বিদায় না নিতেই আরেক ঋতু এসে নিঃশব্দে জায়গা করে নেয় প্রকৃতির আঙিনায়। শরতের কাশফুলের শুভ্র সৌন্দর্য ফিকে হওয়ার সাথে সাথে প ...
মানিক লাল ঘোষ:বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তি, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এই দুই ক্ষণজন্মা পুরুষ যেন একই সূত্রে গাঁথ ...
আসনাতুল আহাদ:আমরা যেন বসবাস করছি এক অদ্ভুত সমান্তরাল বয়ানে। প্রতিনিয়ত আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠছে অগণিত মানুষের চেনা মুখ আর পরিচয়ের তালিকা। তবু আমরা সব তৃপ্তির আড়ালে টের পাই ভেতরে ভেতরে মানুষ কতটা এ ...
সব মন্তব্য
No Comments