স্টাফ রিপোর্টার: খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের নীতি ও আইনী কাঠামো সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কৃষিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় কৃষিনীতি সংস্কার করতে হবে। বাণিজ্যিক অধিকারের পরিবর্তে খাদ্য অধিকারকে অগ্রাধিকার প্রদান করে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।
আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর একেএম মুশতাক আলী মিলনায়তনে সাউথ এশিয়ান অ্যালায়েন্স ফর প্রোভার্টি ইরিডিকেশন (স্যাপি) ও ইনসিডিন বাংলাদেশ আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক একেএম মাসুদ আলী। বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এস এম বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খান মো. রুস্তম আলী, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ইনসিডিন বাংলাদেশের অপারেশন চীফ মুশফিকুর রহমান ও পলিসি এন্ড লিগ্যাল সার্পোট স্পেশালিস্ট মো. রফিকুল আলম, আদিবাসী নেত্রী কল্যাণী চাকমা প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে একেএম মাসুদ আলী বলেন, স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে জনগণের খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীনদের ভূমি, পানি, বীজ ও ঋণ প্রাপ্তির অধিকারকে অগ্রাধিকার প্রদান করেত হবে। ভূমি সংস্কার, জীন পরিবর্তিত শস্যাদি প্রবর্তন প্রতিরোধ, বিনামূল্যে বীজ প্রাপ্তির অধিকার এবং জলের উৎস্যসমূহকে জনগণের সাধারণ সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অংশগ্রহণ ও অগ্রাধিকার দিয়ে সকল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকনেতা বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসছে। নিয়মিত বর্ষা না হওয়ায় পাটের উৎপাদনের সাথে যুক্ত কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। একইভাবে নদী ভাঙন, খরা, আকস্মিক বন্যা ও দক্ষিণঞ্চালে লবণাক্তার প্রভাবে জমি হারাচ্ছে কৃষক। এতে মানুষের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের মাত্রা বেড়েছে। জীবিকার জন্যে শহরমুখী হয়ে অনেকে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানীর কৃষি উপকরণের উপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সার, বীজ ও কীটনাশকের বাজার সিন্ডিকেট, কৃষি ও কৃষকের গঠন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কৃষিতে কর্পোরেট আধিপত্য ও কৃষি কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা কৃষকরা ক্রমশঃই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে। যা প্রকারান্তে দেশের খাদ্য সার্বভৌমত্বকে হুমকি মুখে ফেলে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী ৮টি, আদিবাসী ৩টি এবং ২১টি সুশীল সমাজের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রাপ্ত পরামর্শ ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য সার্বভৌমত্বের জন্য নীতি ও আইনী কাঠামো প্রণয়ন, সমন্বয় ও সংস্কার প্রয়োজন। এ সকল বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
স্টাফ রিপোর্টার: বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে পরিবার। রোববার (১৩ সেপ্টেম ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসা নির্ভর না করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিরোধমুখী কাঠামো হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্র ...
স্টাফ রিপাের্টার: দক্ষিণ ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সাথে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ব ...
স্টাফ রিপোর্টার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও ...
সব মন্তব্য
No Comments