জুলাই জাদুঘর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জাতির সংগ্রামের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে: স্পীকার

প্রকাশ : 12 May 2026
জুলাই জাদুঘর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জাতির সংগ্রামের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে: স্পীকার

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি বলেছেন, জুলাই জাদুঘর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জাতির সংগ্রামের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই জাদুঘর যতদিন টিকে থাকবে ততদিন এদেশের মানুষের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম লিপিবদ্ধ থাকবে।


স্পীকার বলেন, স্বৈরাচারী মাফিয়া শেখ হাসিনার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ ষোলো বছরের নিপীড়ন, নৈরাজ্য ও হত্যাকান্ডের বিবরণ জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে মুন্সিয়ানার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমদের আত্মত্যাগ দেশ ও জাতির জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিবর্গের স্বজনদের সাথে শেখ হাসিনা মিথ্যা সমবেদনা জানিয়ে ইতিহাসে কলংকিত হয়েছে।


তিনি আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। 


স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য। জুলাই গণ অভ্যুত্থানে জনমানুষের আত্মত্যাগ বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, জুলাইযোদ্ধারা জাতির ভবিষ্যতের জন্য তাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন।


জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থান জাদুঘর ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার প্রতিবিম্ব স্বরূপ। এই অভ্যুত্থানে বাংলার দামাল ছেলেরা দেশের গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠায় নিজেদের বিসর্জন দিয়েছে। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই জাদুঘর অনন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে।


এসময় স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার ও বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জুলাই জাদুঘরের লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি রোডে ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ এর বিভিন্ন ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কিত স্থির চিত্র পরিদর্শন করেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত আনাসের কবিতাসহ বিভিন্ন ম্যুরাল ও গ্রাফিতি দেখেন, কোটা আন্দোলন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ১-৩৬ জুলাই, ২০২৪ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সারসংক্ষেপ এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থান সম্পর্কিত নথি পরিদর্শন করেন ও ২০০৯ সালের পিলখানা ম্যাসাকারের ওপর প্রতীকী স্মারক এবং শাপলা চত্ত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের উপর সংরক্ষিত স্মৃতি, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রলীগের নৈরাজ্যে শহিদ আবরার ফাহাদের স্মরণে স্মৃতি কর্ণার, আয়নাঘর মিনিয়েচার, মেমোরিজ অব ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স, বাতাসে দুলতে থাকা জুলাই শহিদের মুখচ্ছবি সংবলিত নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি পরিদর্শন করেন। এছাড়াও শহিদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের নিজ হাতে বানানো সংসদ ভবনের মিনিয়েচার, সৌদি প্রবাসী শহিদ আবু ইসহাকের রক্তে ভেজা জামা এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নিহত শহিদদের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী, রক্তে রঞ্জিত জামাকাপড় দেখে তাঁরা ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।


পরবর্তীতে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের প্রধান ফটকে প্রেস ব্রিফিংয়ে   অংশগ্রহণ করেন। এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জুলাই জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুতে উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান।


পরিদর্শনকালে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক, কিউরেটর টিমের সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

;