বরিশাল অফিস : যথাযোগ্য মর্যাদায় বরিশালে পালিত হয়েছে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক আসাদুজ্জামান আসাদের ৫৩তম শহীদ দিবস। আসাদ দিবস উপলক্ষে শহীদ আসাদ পরিষদ এবং নীলু-মনু ট্রাষ্ট ও পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দিবসটি পালন করা হয়। নগরীর কাউনিয়া নীলু-মনু ট্রাষ্ট ও পাবলিক লাইব্রেরিতে দিবসটি পালনে আলোচনা সভা, আবৃতি ও গণসংগীত পরিবেশন করা হয়।
নীলু-মনু ট্রাস্ট ও পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নীলুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী, জীবন কৃষ্ণ দে, হিরণ কুমার দাস মিঠু, টুলু কর্মকার, আবদুল মোতালেব, আমিনুর রহমান খোকন, মোজাম্মেল হক ফিরোজ, এ্যাড. সুভাস দাস, অধাপিকা মাহমুদা বেগম মনু, জামাল আজাদ প্রমুখ।
শহীদ আসাদ দিবসে বক্তারা বলেন, ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে ছাত্রইউনিয়ন নেতা আসাদের মৃত্যু আইয়ুব শাহীর পতন তরান্বিত করেছিল। এবং এদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ ও তাঁর সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে এদেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজি বিরোধী জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার আহ্বান জানান বক্তারা।
প্রসঙ্গত, আসাদ একাধারে যেমন তিনি ছাত্র আন্দোলন করতেন তেমনি কৃষক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। শহীদ আসাদের সেই রক্তমাখা শার্ট হয়ে উঠেছিল গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক। ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ছাত্রনেতারা দেশব্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দেন। আন্দোলনের তীব্রতায় বেসামাল হয়ে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার ছাত্র-জনতার ওপর শুরু করে নির্যাতন। ২০ জানুয়ারি সংগ্রামী ছাত্রবৃন্দ পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে ধর্মঘট, মিছিল ও প্রতিবাদী সভা আহ্বান করেন। ছাত্র-জনতা সমবেত হয়ে বিশাল মিছিল বের করেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে ২০ জানুয়ারি দুপুরে ছাত্রদেরকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পার্শ্বে চাঁন খাঁ’র পুল এলাকায় মিছিল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসাদ। পুলিশ তাদেরকে চাঁন খাঁ’র ব্রীজে বাঁধা দেয় ও চলে যেতে বলে। কিন্তু বিক্ষোভকারী ছাত্ররা সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নেয়। এবং আসাদ ও তাঁর সহযোগীরা স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। ঐ অবস্থায় খুব কাছ থেকে আসাদকে লক্ষ্য করে এক পুলিশ কর্তা গুলিবর্ষণ করে। স্বৈরাচারী আইয়ুবের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ কর্তার গুলিতে বিদীর্ণ হয় আসাদের বক্ষ। গুলিবিদ্ধ হয়ে আসাদ সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। তৎক্ষণাৎ গুরুতর আহত অবস্থায় আসাদকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে আসাদের রক্তে লাল হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। আসাদের শার্ট। রক্তমাখা লাল। আসাদের শার্ট। মুক্তির কেতন। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সেই সাহস আর প্রতিবাদের ভাষায় উজ্জীবিত হয়ে বের করে এক শোক মিছিল।
ডেস্ক রিপোর্ট: পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে সম্ভাব্য তারিখ ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের সুবিধায় প্রথম দিন হিসেবে ২৩ মে’র আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের টিকিট বিক্ ...
ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যে রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ার পর জরুরি ভিত্তিতে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছে ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র ...
ডেস্ক রিপোর্ট: উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। পাশাপাশি পশ্চিমা লঘুচাপ ...
সব মন্তব্য
No Comments