দৌলতপুরে বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে যুবক গণধোলাইয়ের শিকার, সংবাদ প্রকাশে যুবদল নেতার হুমকি

প্রকাশ : 13 Sep 2026
দৌলতপুরে বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে যুবক গণধোলাইয়ের শিকার, সংবাদ প্রকাশে যুবদল নেতার হুমকি



দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নারীদের পোশাক ও বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে ইসরাইল (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশের দাবি, দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। চুরির অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলামত বা তথ্য পাওয়া যায়নি।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মাঝলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঝলপাড়া গ্রামের মকলেছুর রহমানের বাড়িতে বোরকা ও নারীদের পোশাক পরে ইসরাইল প্রবেশ করে ঘরের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করছিল। এ সময় মকলেছুর রহমানের স্ত্রী মালা খাতুন তাকে দেখে ফেলে আটকানোর চেষ্টা করেন। ইসরাইল পালানোর চেষ্টা করলে মালা খাতুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে ধরে ব্যাপক মারপিট করে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।


স্থানীয়দের দাবি, ইসরাইল পরিহিত থাকা বোরকা খুললে তাকে পুরুষ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে এবং বেঁধে রাখে। পরে স্থানীয়রা ইসরাইলকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে ইসরাইলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা।


এদিকে এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহের সময় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সিমারুলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাবি, ঘটনার পর গতকাল রবিবার সকালে সিমারুল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ না করার জন্য সংবাদকর্মীদের চাপ দেন। এ সময় তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, আমার কথা না শুনলে থানায় কোনো মামলা নিজের হবে না। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।


হুমকির বিষয়ে আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ইনজাল হোসেন বলেন, সিমারুল আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। চুরি বা কোনো অপরাধকে দল সমর্থন করে না। তবে চুরির বিষয়টি আমাদের তদন্তাধীন রয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সিমারুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, আড়িয়া এলাকায় একজন ব্যক্তি মহিলার পোশাক পরা অবস্থায় চুরির অপরাধে স্থানীয়রা ব্যাপক মারধর করেছে। এতে তার পা ও কোমরে ভালোভাবে আঘাত লাগে। এ কারণে তাকে আমরা আটক দেখাইনি। দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেই কারণেই ঘটনাটি ঘটতে পারে। চুরির অভিযোগ করা ব্যক্তিরা চুরির কোনো সঠিক আলামত দেখাতে পারেননি। এ ঘটনায় দুই পরিবার থেকে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

;