জামায়াতের নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য, সংসদে ক্ষোভ ও হট্টগোল

প্রকাশ : 14 Jun 2026
জামায়াতের নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য, সংসদে ক্ষোভ ও হট্টগোল

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় জামায়াতে ইসলামী ও নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে স্পিকার আপত্তিকর অংশ সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা বিষয়ে সতর্ক করে কঠোর রুলিং দেন তিনি।


আজ রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করতে গিয়ে ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের প্রসঙ্গ টানেন। একপর্যায়ে তিনি বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। মুহূর্তেই অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার একাধিকবার সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। হট্টগোলে অংশ নেওয়া কয়েকজন সংসদ সদস্যের নাম ধরে বসতে অনুরোধ জানান তিনি।


পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য না করার জন্য মনিরুল হক চৌধুরীকে সতর্ক করেন। এ সময় স্পিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমরা যদি নিজেদের ডিগনিটি ও ডিসেন্সি বজায় রাখতে না পারি, তাহলে দেশের মানুষের কাছে লজ্জিত হতে হবে। জাতীয় সংসদ কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করার জায়গা নয়।


তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্যের কোনো অংশে যদি কারও আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকে, তবে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। পরে স্পিকার সংশ্লিষ্ট অংশ এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন।


মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে সংসদে কথা বলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, উনি শুধু সংসদীয় রীতিনীতি লঙ্ঘনই করেননি, বরং সাংবিধানিক অধিকারও অতিক্রম করেছেন। বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত ইতিহাসের দোহাই দিয়ে কটাক্ষ করা এবং নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। এ ধরনের বক্তব্যকে হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।


জবাবে ডেপুটি স্পিকার জানান, আপত্তিকর বক্তব্য ইতোমধ্যে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সংসদে রুলিং দিয়ে বলেন, কোনো সদস্য অন্য কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে পারবেন না এবং সবাইকে সংসদের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি। তিনি বলেন, সংসদে অনেক সময় পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে রসিকতা ও হালকা আলোচনা হয়। তিনি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যে কাউকে নির্দিষ্ট করে আঘাত করার উপাদান দেখেননি বলেও মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তাকে থামিয়ে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, একবার এক্সপাঞ্জ করার সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে তা নিয়ে নতুন করে কোনো ব্যাখ্যা বা যৌক্তিকতা দেখানোর সুযোগ নেই।


পরে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ ধারার উল্লেখ করে বলেন, কোনো সদস্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার অধিকার রয়েছে। তিনি মনিরুল হক চৌধুরীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। জবাবে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং সবাইকে মূল বাজেট আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত খবর

;